📌 নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের আয়োজনে ২৩ সেপ্টেম্বর কারাম উৎসবের আয়োজন। ঢোল-মাদলের সুরে মেতে উঠল আদিবাসী ও সাধারণ মানুষের মিলনমেলা, যেখানে প্রকৃতি বন্দনা ও হারিয়ে যেতে বসা ভাষা-সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত হয়
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহাসিক মাঠে ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায় পরিণত হয় কারাম উৎসব। ঢোল-মাদলের তালে মেতে উঠল সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুন্ডা, সাঁওতাল, মাহাতো ও হাঁড়ি জাতিসত্তার মানুষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহাসিক মাঠে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের আয়োজনে কারাম উৎসবের আয়োজন।
- 📌 উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল নিজস্ব মাতৃভাষায় গাওয়া গান ও ছন্দময় নৃত্য, যেখানে হারিয়ে যেতে বসা ভাষা ও সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত হয়।
- 📌 ভাদ্র মাসের শুক্লা একাদশী তিথিতে পালিত এই উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো খিল কদম ডাল পূজা।
- 📌 উৎসবের আগের দিন অবিবাহিত তরুণীরা জঙ্গল থেকে পবিত্র কারাম গাছের ডাল কেটে আনেন, যা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
- 📌 দিনশেষে তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ নেচে-গেয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ডাল নিকটস্থ পুকুরে বিসর্জন দেন।
- 📌 তরুণ প্রজন্মের আশা, সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
📰 বিস্তারিত
পায়ে আলতা, খোঁপায় বাহারি ফুল ও লাল-হলুদ শাড়ির রঙিন আবহে পুরো এলাকাই মুখরিত হয়ে ওঠে কারাম উৎসবের সুরে। এই উৎসবের আয়োজন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উদ্যোগে। উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় গাওয়া সমবেত গান ও ছন্দময় নৃত্য। নাচের তালে তরুণ-তরুণীরা ফুটিয়ে তোলেন তাদের হারিয়ে যেতে বসা ভাষা, সংস্কৃতি ও হাজার বছরের ঐতিহ্য।
কারাম উৎসব মূলত খিল কদম ডাল পূজাকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। ভাদ্র মাসের শুক্লা একাদশী তিথিতে, মাঠে ধান রোপণের কাজ শেষ হওয়ার পর এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালন করা হয়। উৎসবের আগের দিন সন্ধ্যায় গ্রামের অবিবাহিত তরুণীরা জঙ্গল থেকে পবিত্র কারাম গাছের ডাল কেটে নিয়ে আসেন। তাদের বিশ্বাস, এই কারাম উৎসব জীবনে সৌভাগ্য বয়ে আনে এবং সকল অভাব ও গ্লানি দূর করে।
উৎসবের দিন সকালে নির্দিষ্ট মাঠে ডাল পুঁতে তাতে নানা রঙের ফুল ও নতুন গামছা পরানো হয়। বাঁশের ডালায় রাখা বালুমিশ্রিত মাটিতে বিভিন্ন শস্যের বীজ রেখে প্রদীপ জ্বালিয়ে বিশেষ পূজা-অর্চনা চলে। এরপর ঢোল-মাদলের তালে চলে আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষার গান ও মনোমুগ্ধকর নাচ। দিনশেষে তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ নেচে-গেয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেই ডাল নিকটস্থ পুকুরে বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি টানেন।
"আমাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সবার সামনে তুলে ধরতে পেরে আমরা দারুণ খুশি। তবে শুধু একবার নয়, আমাদের এই প্রাণের উৎসব টিকিয়ে রাখতে এমন আয়োজন আরও বেশি বেশি হওয়া দরকার।"
— তরুণী রিয়া পাহাড়ি
"শেকড়কে ভালোবেসে বাঁচিয়ে রাখার এই লড়াইয়ে আমাদের প্রজন্ম সবসময় পাশে থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের এই সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে।"
— যুবক সুজিত উরাও
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পত্নীতলা উপজেলা, নওগাঁ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তরুণী রিয়া পাহাড়ি, যুবক সুজিত উরাও, আদিবাসী সমাজকর্মী বিশ্বনাথ সিং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ সেপ্টেম্বর (উৎসবের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!