📌 শেরপুরের তারাগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হোসেন আলী নয় বছর ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগে অনশনে বসেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে মারধর করেছে এবং মিথ্যা চুরির মামলায় জেলেও যেতে হয়েছে
তারাগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হোসেন আলী নয় বছর ধরে বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধের দাবিতে মঙ্গলবার রাত থেকে অনশনে বসেছেন। বিদ্যালয়ের ফটকের পাশে চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় স্থানীয় ১০ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষ তাঁর দাবির প্রতি সংহতি জানান। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খোকন দাবি করেছেন, হোসেন আলী বিদ্যালয়ের কর্মচারী নন এবং তাঁর কোনো বকেয়া বেতন নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তারাগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হোসেন আলী নয় বছর ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগে অনশনে বসেছেন
- 📌 হোসেন আলী দাবি করেছেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে মারধর করেছে এবং মিথ্যা চুরির মামলায় জেলেও যেতে হয়েছে
- 📌 প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খোকন দাবি করেছেন, হোসেন আলী বিদ্যালয়ের কর্মচারী নন এবং তাঁর কোনো বকেয়া বেতন নেই
- 📌 বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে কক্ষ খালি করতে বলেছে
📰 বিস্তারিত
শেরপুরের তারাগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হোসেন আলী গত নয় বছর ধরে বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি জানান, গত নয় বছর ধরে তাঁকে কোনো বেতন-ভাতা দেওয়া হয়নি। এছাড়া, গত ২৬ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একটি সাইকেল চুরির অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খোকন ও কর্মচারী আকাব্বর তাঁকে চেয়ারে বেঁধে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন হোসেন আলী। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ায় জেলও খাটতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হোসেন আলীর স্ত্রী নাজমা বেগম অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খোকন তাঁকে দড়ি দিয়ে চেয়ারে বেঁধে মারধর করেন এবং দরজা বন্ধ করে রাখেন। স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বলেন, হোসেন আলী ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষ। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির মামলা দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যালয় থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খোকন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আপত্তিকর কিছু পেয়ে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক হোসেন আলীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। এর পর থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হোসেন জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে অবস্থান করে আসছেন। তিনি আরও বলেন, হোসেন আলী সাত বছর ধরে বিদ্যালয়ের কেউ নন এবং তাঁর কোনো বকেয়া বেতন নেই। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে কক্ষটি খালি করতে বলেছে।
‘গত ১৪ বছর ধরে বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করে আসছি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করি। গত ৯ বছর ধরে আমাকে কোনো বেতন-ভাতা দেওয়া হয়নি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তারাগঞ্জ, শেরপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হোসেন আলী, তৌহিদুল ইসলাম খোকন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ বছর, ১৪ বছর, ২৬ জুলাই, ২৪ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!