📌 জাতীয় জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব বিভাগে প্রদর্শিত দুটি ঐতিহাসিক পালঙ্ক জমিদারদের রাজকীয় জীবনের সাক্ষী। ফরিদপুর ও নড়াইলের জমিদারদের ব্যবহৃত এই পালঙ্কে সিংহ, পরি, হরিণ ও মানুষের অবয়ব খোদাই করা হয়েছে। দৈর্ঘ্য ১২৩ থেকে ১২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত বিস্তৃত এই শিল্পকর্মের পেছনে লুকিয়ে আছে বাঙালি দারুশিল্পের গৌরবময় ঐতিহ্য
জাতীয় জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের ৩১ ও ৩২ নম্বর গ্যালারিতে প্রদর্শিত দুটি ঐতিহাসিক পালঙ্ক দর্শনার্থীদের মনে জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণীয় নিদর্শন। এই পালঙ্কগুলো যুগের গৌরবময় সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জমিদারদের রাজকীয় জীবনের প্রতিফলন ঘটেছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষভাবে শিশুদের আকর্ষণ করে এই শিল্পকর্মের নকশা, যেখানে পরি, সিংহ, হরিণ ও মানুষের অবয়ব খোদাই করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২৩ থেকে ১২৫ ইঞ্চি লম্বা দুটি ঐতিহাসিক পালঙ্ক জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত — ফরিদপুর ও নড়াইলের জমিদারদের ব্যবহৃত।
- 📌 ফরিদপুরের জমিদারের পালঙ্কের দৈর্ঘ্য ১২৩ ইঞ্চি ও প্রস্থ ২৭ ইঞ্চি। এতে মানুষের অবয়ব, নারীমূর্তি, সিংহ, হরিণ ও হাতির খোদাই করা আছে।
- 📌 নড়াইলের লোহাগড়ার জমিদারের পালঙ্কের দৈর্ঘ্য ১২৫ ইঞ্চি, প্রস্থ ১০১ ইঞ্চি ও উচ্চতা ১৩৩ ইঞ্চি। চারটি প্যাঁচানো স্তম্ভে পরির নকশা এবং উদ্ভিজ্জ নকশা রয়েছে।
- 📌 উনিশ শতকের এই পালঙ্কগুলো ১৯৭৬ ও ১৯৭৮ সালে জাতীয় জাদুঘরে সংগ্রহ করা হয়।
- 📌 দারুশিল্পের ঐতিহ্যে এই পালঙ্কগুলো ২ থেকে ৩ বছর সময় নেয় তৈরি। সেগুন, কাঁঠাল, গর্জন, জারুল ও মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি।
📰 বিস্তারিত
জাতীয় জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের ৩১ ও ৩২ নম্বর গ্যালারিতে প্রদর্শিত এই পালঙ্কগুলো দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। ব্যবসায়ী রাকিব হাসান তার পরিবারের সাথে জাদুঘর ভ্রমণে গিয়ে বলেছেন, ‘বাচ্চারা তো পালঙ্ক দেখেনি, এখানে দেখাতে এসেছি। পরি, মৎস্যকন্যা, সিংহ, বাঘ দেখে ওরা অনেক খুশি হয়েছে।’ এই পালঙ্কগুলো জমিদারদের ব্যবহৃত ছিল এবং তাদের শিল্পবোধ ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ফরিদপুরের জমিদারের পালঙ্কটি ১৯৭৬ সালে সংগ্রহ করা হয়, যেখানে মানুষের অবয়ব, নারীমূর্তি এবং প্রাণীদের খোদাই করা হয়েছে। অন্যদিকে, নড়াইলের লোহাগড়ার জমিদারের পালঙ্কটি ১৯৭৮ সালে সংগ্রহ করা হয়। এই পালঙ্কের দৈর্ঘ্য ১২৫ ইঞ্চি, প্রস্থ ১০১ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ১৩৩ ইঞ্চি। এর চারটি প্যাঁচানো স্তম্ভে পরির নকশা এবং পায়ায় উদ্ভিজ্জ, ফুলেল ও লতাপাতার নকশা রয়েছে।
দারুশিল্পের ঐতিহ্যে এই পালঙ্কগুলো তৈরি করতে ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগত। সেগুন, কাঁঠাল, গর্জন, জারুল ও মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি এই শিল্পকর্মে কারিগরদের দক্ষতা ও শিল্পবোধের প্রতিফলন ঘটেছে। জমিদার ও বিত্তবানদের বাড়িতে মাসিক চুক্তিতে কাজ করতেন সূত্রধরেরা।
"বাংলাদেশের দারুশিল্প' বইয়ে বলা হয়েছে, খাট-পালঙ্কের নির্মাণে শাস্ত্রীয় প্রভাব থাকলেও অলংকরণে শিল্পীর নিজস্ব শৈলীর প্রকাশ ঘটেছে।"
জাতীয় জাদুঘরের সাবেক কিপার জিনাত মাহরুখ বানু বলেছেন, যশোর, খুলনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চলে একসময় উচ্চমানের অলংকৃত পালঙ্ক তৈরি হতো। এই পালঙ্কগুলোতে ব্রিটিশ, রোমান, গ্রিক ও আরবি স্থাপত্য এবং শিল্পশৈলীর অনুকরণও দেখা যায়। তবে বাংলার সূত্রধরেরা এসব নকশায় নিজেদের শিল্পশৈলীও বজায় রেখেছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা (জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগ, ৩১ ও ৩২ নম্বর গ্যালারি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জমিদারদের, ব্যবসায়ী রাকিব হাসান, জিনাত মাহরুখ বানু (সাবেক কিপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২৩ ইঞ্চি (ফরিদপুরের পালঙ্কের দৈর্ঘ্য), ১২৫ ইঞ্চি (নড়াইলের পালঙ্কের দৈর্ঘ্য), ১৩৩ ইঞ্চি (উচ্চতা), ২৭ ইঞ্চি (ফরিদপুরের পালঙ্কের প্রস্থ), ১০১ ইঞ্চি (নড়াইলের পালঙ্কের প্রস্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!