📌 নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় এক দাদা তাঁর নাতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে অভিনব মাইকিং করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে নাতির অত্যাচারের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের ব্যাপারীপাড়া এলাকায় নিজের নাতির বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন এক দাদা। স্থানীয়দের সঙ্গে লেনদেন না করতে এলাকাজুড়ে মাইকিং করেছেন তিনি। গত শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তা আলোচনার কেন্দ্রে আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের ব্যাপারীপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে
- 📌 দাদা মো. করম আলী ব্যাপারী (৭২) তাঁর নাতি মো. মাহাবুব মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে মাইকিং করেন
- 📌 মাহাবুব মিয়া বিভিন্ন দোকানদার ও লোকজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে দাদার ওপর চাপিয়ে দিতেন
- 📌 দাদা করম আলী জানান, নাতি তাঁর কাছ থেকে মোট ৬০ হাজার টাকা আদায় করেছেন, যার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা শোধ করেছেন তিনি
- 📌 বড়চাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন
📰 বিস্তারিত
মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের ব্যাপারীপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. করম আলী ব্যাপারী তাঁর নাতি মো. মাহাবুব মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে অভিনব মাইকিংয়ের আয়োজন করেন। তিনি একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাতে মাইক্রোফোন স্থাপন করেন এবং এলাকাজুড়ে ঘোষণা দেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, অটোরিকশার চালকের পাশে বসে থাকেন করম আলী ব্যাপারী। অন্যদিকে মাইক্রোফোন হাতে একজন ব্যক্তি এলাকাবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সম্মানিত এলাকাবাসী, লক্ষ করে শুনুন, পাইকান ব্যাপারীপাড়ার মো. করম আলী ব্যাপারীর নাতি মো. মাহাবুব মিয়ার সঙ্গে কোনো দোকানদার লেনদেন করবেন না, অথবা কোনো রকম হাওলাদ টাকা দেবেন না।’ তিনি আরও বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।
করম আলী ব্যাপারী জানান, তাঁর নাতি মাহাবুব মিয়া অল্প বয়সেই একাধিক বিয়ে করেছেন। তিনি বিভিন্ন দোকানদার ও লোকজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে তা তাঁর দাদার ওপর চাপিয়ে দিতেন। দোকানদাররা তাঁর কথা শুনে টাকা দিতেন বা তিনি নিজে ধার করতেন, আর সেই টাকা শোধ করতে হতো করম আলীকে। দীর্ঘদিন ধরে এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি এই অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বহুদিন ধরে সে আমার ওপর এ অত্যাচার করছে। মানুষের কাছ থেকে টাকা চেয়ে আনে, আর সে টাকা দিতে হয় আমার। কয় দিন আগে সে জুয়া খেলে ৬০ হাজার টাকা হারছে। এ পর্যন্ত আমি ৫০ হাজার টাকা দিছি। ১০ হাজার টাকা এখনও দিতে পারিনি বলে অপমান করছে। বাজারে ছাগল বিক্রি করে সংসার চলে, এসব অত্যাচার সহ্য হয় না।’
বড়চাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাহাবুব নানা লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাদার ওপরে চাপিয়ে দিতেন। অতিষ্ঠ হয়ে তাঁকে আর ধার না দিতে মাইকিং করে ব্যতিক্রমী সতর্কবার্তা প্রচার করেছেন ওই দাদা।
‘সম্মানিত এলাকাবাসী, লক্ষ করে শুনুন, পাইকান ব্যাপারীপাড়ার মো. করম আলী ব্যাপারীর নাতি মো. মাহাবুব মিয়ার সঙ্গে কোনো দোকানদার লেনদেন করবেন না, অথবা কোনো রকম হাওলাদ টাকা দেবেন না, অথবা আপনাদের মোবাইল তাঁর হাতে দেবেন না। এই নিষিদ্ধের পরও তাঁর সঙ্গে কোনো লেনদেন করলে আপনার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের ব্যাপারীপাড়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. করম আলী ব্যাপারী, মো. মাহাবুব মিয়া, সুলতান উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২, ২২, ৬০ হাজার, ৫০ হাজার, ১০ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!