📌 নরসিংদীর রায়পুরার মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের স্থান নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। পুরোনো এলাকায় না করে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ির কাছে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন জমিদাতা।
নরসিংদীর রায়পুরার মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নতুন ভবন নির্মাণের স্থান নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। পুরোনো এলাকায় না করে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ির কাছে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন জমিদাতা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মির্জানগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে নিজ বাড়ির কাছে নতুন ভবন নির্মাণের অভিযোগ
- 📌 পুরোনো ইউপি ভবন এলাকার জমিদাতা আজিজুল হক হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন
- 📌 হাইকোর্ট সরকারি কর্মকর্তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে রুল জারি করেছেন
- 📌 পুরোনো ভবন থেকে এক কিলোমিটার দূরে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে
- 📌 প্রকল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে
📰 বিস্তারিত
নরসিংদীর রায়পুরার মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের স্থান নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। পুরোনো এলাকায় না করে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ির কাছে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন পুরোনো ইউপি ভবন এলাকার জমিদাতা আজিজুল হক। তিনি জানান, মির্জানগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিন রিপন নিজ বাড়ির কাছাকাছি জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ করছেন। এ স্থানটি সরকারি পরিপত্র ও পূর্ববর্তী প্রশাসনিক সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন জমিদাতা আজিজুল হক। হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে রুল জারি করেছেন। আদালত জানতে চেয়েছেন, বিদ্যমান স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ না করে অন্যত্র নির্মাণ করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
পুরোনো ভবনসংলগ্ন প্রায় ৫০ শতাংশ জমিও নতুন ইউপি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য দান করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো পরিষদ ভবনের জায়গা থেকে এক কিলোমিটার দূরে বাঙ্গালীনগর মৌজায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণশ্রমিকেরা সেখানে কাজ করছেন।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যে ভবন নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আলম নতুন ভবনের জন্য সম্ভাব্য দুটি স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি পুরোনো ভবনের জমিটি উপযুক্ত বলে সুপারিশ করেন। একই সময়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জমিটি নিষ্কণ্টক বলে প্রত্যয়ন দেন। পরে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জয়নুল বারী দুটি স্থান পরিদর্শন করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পুরোনো ভবনের স্থানটিকে অগ্রাধিকারযোগ্য বলে মতামত দেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. জিল্লার রহমান স্থানীয় সরকার বিভাগে পুরোনো ভবনের স্থানে নতুন ইউপি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের সুপারিশসহ প্রস্তাব পাঠান। তবে ২০১১ সালে দুই স্থানের জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কমিটি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে ইউপি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
"মির্জানগর ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে বর্তমান পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সেবাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু চেয়ারম্যান নিজের সুবিধার জন্য অন্য এলাকায় ভবন নির্মাণ করছেন। আমার পরিবার ইউপি ভবনের জন্য ৬০ শতাংশ জায়গা দিয়েছে। বিদ্যমান স্থানে ভবন নির্মাণ না হলে আমাদের জমি ফেরত দেওয়া হোক।"
হাইকোর্টের আইনজীবী কে এম সামসাদ বলেন, "গত ২৭ জুলাই আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন। বিদ্যমান স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ না করে অন্যত্র নির্মাণ করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।"
ইউপি চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিন রিপন সরকার বলেন, "২০১১ সালে দুই স্থানের জটিলতা নিরসনের জন্য স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও জনবান্ধব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। আমি ২০২১ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর দৌড়াদৌড়ি করে ভবনটির অনুমোদন আনতে সক্ষম হয়েছি। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। তবে আদালতের বিষয়ে এখনো কোনো চিঠি পাইনি।"
এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, "এ বিষয়ে এখনো আমরা কোনো চিঠি পাইনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মির্জানগর, রায়পুরা, নরসিংদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. বশির উদ্দিন রিপন (ইউপি চেয়ারম্যান), আজিজুল হক (জমিদাতা), মোহাম্মদ জয়নুল বারী (সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ (শতাংশ), ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, ২৫ (শতাংশ), ২৭ মার্চ ২০০৮, ৬০ (শতাংশ), ২৭ জুলাই ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!