📌 মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায় তিন-চার বছর ধরে অনুমোদনহীনভাবে কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ দূষণ করছে এবং স্থানীয়দের স্বাস্থ্য বিপদে ফেলেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও প্রভাবশালী চক্রের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায় তিন-চার বছর ধরে একটি অবৈধ কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ দূষণ করছে এবং স্থানীয়দের স্বাস্থ্য বিপদে ফেলেছে। এই কারখানাটি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে এবং গরুর চামড়া, হাড়, মাংসসহ বিভিন্ন কাঁচামাল পোড়ানোর ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে, যা শিশু, প্রবীণ ও হৃদ্রোগীদের মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায়** তিন-চার বছর ধরে অনুমোদনহীনভাবে কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করছে
- 📌 **গরুর চামড়া, হাড় ও মাংস পোড়ানোর** ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে, যা স্থানীয়দের স্বাস্থ্য বিপদে ফেলেছে
- 📌 **পরিবেশ অধিদপ্তর** স্বীকার করেছে, কারখানাটি কোনো ছাড়পত্র পায়নি এবং আবেদনও করা হয়নি
- 📌 **প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর** দায়িত্বহীনতা দেখাচ্ছে, কারখানাটি দীর্ঘকাল ধরে চলতে পেরেছে
- 📌 **স্থানীয়দের অভিযোগ**, রাতের আঁধারে পোড়ানোর কাজের ফলে শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায় তিন-চার বছর আগে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরির জন্য গড়ে উঠেছিল। তবে এই কারখানাটি অনুমোদনহীনভাবে গড়ে উঠেছে এবং পরিবেশ দূষণ করছে। কারখানাটিতে গরুর চামড়া, হাড় ও মাংসসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বড় চুল্লিতে পোড়ানো হয়, যার ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসের সঙ্গে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে স্থানীয়দের স্বাস্থ্য বিপদে পড়েছে, বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও হৃদ্রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের আঁধারে পোড়ানোর কাজ চললে শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। এমন একটি জনবহুল ও কৃষিনির্ভর এলাকায়, যেখানে একাধিক উৎপাদনশীল কারখানাও রয়েছে, সেখানে কীভাবে পরিবেশ দূষণকারী এই ধরনের কারখানা চলতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক স্বীকার করেছেন যে, কারখানাটি কোনো ছাড়পত্র পায়নি এবং ছাড়পত্রের জন্য কোনো আবেদনও করা হয়নি। এর অর্থ দাঁড়ায় কারখানাটি সম্পূর্ণরূপে বেআইনিভাবে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
অবৈধ কারখানাটি দীর্ঘকাল ধরে চলতে পেরেছে, যা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বহীনতারই প্রকাশ। স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানোর পর, তারা ‘খতিয়ে দেখা’ ও ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই আশ্বাস যেন শুধু আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অনুমোদনহীন এই বিষাক্ত কারখানার কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
"আবাসিক এলাকায় এত দিন ধরে বেআইনিভাবে কারখানাটি চলার জন্য এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী চক্রের ভূমিকা আছে কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয় মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফোর্ডনগর খানপাড়া, ধল্লা ইউনিয়ন, সিংগাইর উপজেলা, মানিকগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্থানীয় অধিবাসী, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: তিন-চার বছর (কারখানার অস্তিত্ব), শিশু, প্রবীণ ও হৃদ্রোগী (স্বাস্থ্য বিপদগ্রস্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!