📌 লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন রোগী ও অভিভাবকরা। এক্স-রে থেকে শুরু করে নেবুলাইজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা স্থগিত থাকায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবা স্থগিত হয়ে পড়ছে। এক্স-রে থেকে শুরু করে নেবুলাইজার পর্যন্ত সব ধরনের যন্ত্রনির্ভর পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হলেও প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগী ও অভিভাবকদের।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লোডশেডিংয়ের কারণে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে, নেবুলাইজার ও প্যাথলজি পরীক্ষা স্থগিত
- 📌 এক্স-রে করতে আসা কামরুল ইসলামকে এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিদ্যুৎ না থাকায় ফিরে যেতে হয়েছে
- 📌 নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু মিনু আক্তারের মা মারজান বেগম দিনে চারবার নেবুলাইজ করার কথা থাকলেও একবারও করতে পারেননি
- 📌 উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শনিবার অন্তত সাতবার লোডশেডিং হয়েছে
- 📌 হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও ডিজেল সংকটে তা চালানো সম্ভব হচ্ছে না
📰 বিস্তারিত
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শনিবার দুপুর ১২টায় এক্স-রে করাতে আসেন চরবংশী ইউনিয়নের চরমোহনা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম (৪৫)। তাঁর হাতের আঙুলে আঘাত লেগেছিল। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে এক্স-রে যন্ত্রটি চালানো সম্ভব হয়নি। এক্স-রে কক্ষের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিদ্যুৎ না আসায় খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি। কামরুল ইসলাম বলেন, ‘চরবংশী থেকে এক্স-রে করানোর জন্য এসেছি। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো লাভ হয়নি। কখন বিদ্যুৎ আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
একই দিনে নিউমোনিয়া আক্রান্ত চার বছরের শিশু মিনু আক্তারকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন তাঁর মা মারজান বেগম। চিকিৎসক দিনে চারবার নেবুলাইজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে সকাল থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত তিনি কেবল একবার নেবুলাইজ করতে পেরেছেন। মারজান বেগম বলেন, ‘শ্বাসকষ্টে ভুগছে শিশুটি। চিকিৎসক চারবার নেবুলাইজ করতে বলেছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।’
তিন বছরের শিশুকে টিকা দিতে আসা সেলিনা আক্তারকেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দূর থেকে কষ্ট করে বাচ্চাকে টিকা দিতে হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ খোলা যাচ্ছিল না। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত সাতবার লোডশেডিং হয়েছে। ফলে উপজেলার দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে চিকিৎসাসেবায় সমস্যা হয়। জেনারেটর থাকলেও ডিজেলের অভাবে তা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
‘বিদ্যুৎ না থাকলে চিকিৎসাসেবায় সমস্যা হয়। রোগীদের দুর্ভোগও বাড়ে। হাসপাতালে জেনারেটর আছে। কিন্তু জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’ — মামুনুর রশিদ, আরএমও, রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লক্ষ্মীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুল ইসলাম, মারজান বেগম, সেলিনা আক্তার, মিনু আক্তার, মামুনুর রশিদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫, ৪, ৭৭, ২৩, ৩০, ৩৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!