📌 বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে রাখা ল্যান্ডমাইনে বিস্ফোরণে দুই পা হারিয়ে মৃত্যু হয়েছে সাইফুল ইসলাম নামের এক কাঠুরের। ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে রাখা ল্যান্ডমাইনে বিস্ফোরণে দুই পা হারিয়ে মৃত্যু হয়েছে সাইফুল ইসলাম (২৮) নামের এক কাঠুরের। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোমবার সকাল ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ি ৫২ পিলার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে
- 📌 বিস্ফোরণে সাইফুল ইসলামের দুই পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়
- 📌 ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়
- 📌 মৃত ব্যক্তি দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ির সাবের আহমদের ছেলে ছিলেন
- 📌 ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরও ৫ জন কাঠুরে
📰 বিস্তারিত
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ি ৫২ পিলার এলাকায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে রাখা ল্যান্ডমাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি ওই এলাকায় গোপনে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছিল। ঘটনার সময় সাইফুল ইসলামসহ মোট ৬ জন কাঠুরে সেখানে বাঁশ কাটতে গিয়েছিলেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন।
হেলাল উদ্দিন আরও জানান, সাইফুল ও তাঁর দুই ভাইসহ মোট ৬ জন কাঠুরে সীমান্তের ৫২ পিলার এলাকার দড়দড়ি এলাকায় বাঁশ কাটতে যান। সেখানে কোনো বেড়া বা সীমানা না থাকায় তাঁরা নিজেদের অজান্তেই শূন্যরেখায় পৌঁছে যান। এ সময় বিকট শব্দে একটি মাইন বিস্ফোরিত হলে সাইফুলের দুই পায়ের গোড়ালি উড়ে যায়।
সঙ্গীরা তাঁকে কাঁধে করে পাইনছড়ি স্টেশনে নিয়ে আসেন। তখন সকাল ১১টা। সেখান থেকে নৌকায় কালুর ঘাট এবং পরে ছোট ডাম্পার ট্রাকযোগে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
"সাইফুল ইসলামের দুই সন্তান রয়েছে এবং তারা স্কুলে পড়ে। বাঁশ ও গাছ কেটে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।"
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের মিয়ানমার অংশে ডুইল্যাঝিরি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ওপর পা পড়ায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, জীবিকার প্রয়োজনে অনেকেই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বাঁশসহ বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে যান। সেখানে ল্যান্ডমাইন ও সংঘাতের কারণে তাঁদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইফুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ বছর, ৫২ পিলার, ২৮ কিলোমিটার, ৬ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!