📌 খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয়ের শৌচাগারে পাঁচ ঘণ্টা ধরে হাত-পা-মুখ বাঁধা অবস্থায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই ছাত্রীর চিকিৎসা চলছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের শৌচাগারে পাঁচ ঘণ্টা ধরে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর নির্মাণশ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয়ের শৌচাগারে পাঁচ ঘণ্টা ধরে হাত-পা-মুখ বাঁধা অবস্থায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার
- 📌 বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নির্মাণশ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করেন
- 📌 ঘটনার সময় ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যাননি বলে জানান শিক্ষকেরা
- 📌 হামলাকারীদের নেশাগ্রস্ত মনে হয়েছিল বলে জানায় উদ্ধার হওয়া ছাত্রী
- 📌 বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ঘটনার দিন বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছিল পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করার জন্য
- 📌 বিদ্যালয়ে নয়টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও দুটি বারান্দার ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ঘটনার কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি
- 📌 পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় অবস্থিত একটি বিদ্যালয়ের শৌচাগারে পাঁচ ঘণ্টা ধরে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর নির্মাণশ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই ছাত্রীর চিকিৎসা চলছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
উদ্ধার হওয়া ছাত্রী জানায়, বিদ্যালয় ছুটির পর তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যাননি। ঘটনার দিন তিনি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে একজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফেরার আগে শৌচাগারের দিকে যান। সেখানে ঢোকার আগে পেছন থেকে তাকে আঘাত করা হয়। এরপর মুখে কোনো একটি পদার্থ স্প্রে করা হয় এবং তিনি আংশিক অচেতন হয়ে পড়েন। কিছুটা জ্ঞান থাকলেও হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরা হয়। হামলাকারীদের নেশাগ্রস্ত মনে হয়েছিল বলে জানায় ওই ছাত্রী।
জ্ঞান ফেরার পর তিনি বুঝতে পারেন তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। কয়েকজনের কথাবার্তার শব্দ শুনতে পান তিনি। হাত বাঁধা অবস্থায় দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন। পরে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা শৌচাগারের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে জানান, এ বছর বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভা করার কথা রয়েছে। এ কারণে টিফিনের পর বেলা দুইটার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন তিনি নিজে বেলা তিনটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ছিলেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওয়াশব্লকে কারও সাড়া না পেয়ে তালা লাগিয়ে তাঁকে বিষয়টি জানান। যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছিলেন, তিনিও বিকেল চারটার দিকে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যান।
প্রধান শিক্ষক জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যালয়ে নয়টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তবে বারান্দার দুটি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ঘটনার বিষয়ে ফুটেজ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
"হামলাকারীদের কাউকে আমি দেখতে পারিনি। তবে তাদের কণ্ঠস্বর শুনলে শনাক্ত করতে পারব।"
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসেন জানান, পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ওই ছাত্রীর বক্তব্য নিয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এখনো ওই ছাত্রীর পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।
ওসি আরও বলেন, ওই ছাত্রীর বাবা একসময় একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। আর্থিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিরোধ রয়েছে। সেই বিষয়ও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রীর হাতে ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। কীভাবে ওই ক্ষত হয়েছে, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দশম শ্রেণির ছাত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: নয়টি (সিসিটিভি ক্যামেরা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!