📌 যশোরের কেশবপুরে প্রেসক্লাব নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পাঁচজন সাংবাদিক আহত হন, যার মধ্যে তিনজন হাসপাতালে ভর্তি। নির্বাচন উত্তেজনা পটভূমিতে ঘটনাটি ঘটে
যশোরের কেশবপুরে প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন সাংবাদিক আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোরের কেশবপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তিতে পাঁচজন আহত, তিনজন হাসপাতালে ভর্তি
- 📌 নির্বাচন উত্তেজনা পটভূমিতে ঘটনায় বর্তমান কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, জয়দেব চক্রবর্তী ও জাহিদুর রহমান মারধর ও আহত হন
- 📌 অভিযোগ: বিএনপির নেতাসহ বহিরাগত ব্যক্তিরা প্রেসক্লাব দখল করে আসবাবপত্র তছনছ করেন, সাংবাদিকদের বের করে দেন
- 📌 প্রতিপক্ষের দাবি: প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের জায়গা, বহিরাগত কেউ ছিলেন না, তারা নিজেদের দখল করেছেন
- 📌 প্রথম আলোর প্রতিনিধি দিলীপ মোদক ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন
- 📌 ২৬ সেপ্টেম্বর আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাচন উত্তেজনা পটভূমিতে ঘটনাটি ঘটে
📰 বিস্তারিত
যশোরের কেশবপুর প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন সাংবাদিক আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রথম আলোর প্রতিনিধি দিলীপ মোদক ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন।
সাংবাদিকদের এক পক্ষের অভিযোগ, বিএনপির পদধারী নেতাসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে বহিরাগত ব্যক্তিরা প্রেসক্লাবে ঢুকে ‘মব সৃষ্টি’ করে প্রেসক্লাবের দখল নিয়েছেন। তবে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের ভাষ্য, ‘প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের জায়গা। সাংবাদিকেরাই দখলে নিয়েছেন। বহিরাগত কেউ ছিলেন না।’
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা আখিরুজ্জামান জানান, প্রথম দফায় তিনজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন আছে। তিনজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় দুজন জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
কেশবপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৬ সেপ্টেম্বর কেশবপুর প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যে জয়দেব চক্রবর্তীকে সভাপতি প্রার্থী এবং আবদুল্লাহ আল ফুয়াদকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী করে একটি প্যানেল প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিল। এর বাইরে বর্তমান সভাপতি আশরাফ উজ জামান খান সভাপতি পদে এবং রুহুল কুদ্দুস সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। মূলত ওই নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আজ দুপুরে কয়েকজন প্রেসক্লাবে ঢুকে প্রথমে ভাঙচুর চালান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
"প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের জায়গা। সাংবাদিকেরাই দখলে নিয়েছেন। বহিরাগত কেউ ছিলেন না।"
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ অভিযোগ করেন, দুপুরে কেশবপুর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান, মাহবুবুর রহমান, আশরাফুজ্জামান, হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত ব্যক্তি প্রেসক্লাবে ঢুকে আসবাবপত্র তছনছ করেন। এ সময় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়দেব চক্রবর্তী, বর্তমান সদস্য জাহিদুর রহমানসহ তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয়। তাঁরা প্রেসক্লাবে ঢুকেই অন্য সদস্যদের বের করে দেন। ঘণ্টাব্যাপী ‘মব’ করে প্রেসক্লাব দখল করে নেন।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, প্রেসক্লাবে উদ্ভূত পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সাংবাদিকদের মধ্যে একটি অন্তঃকোন্দল চলছে। উভয় পক্ষের মধ্যে গোলযোগ হয়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত। কোনো পক্ষ এখনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কেশবপুর, যশোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, জয়দেব চক্রবর্তী, জাহিদুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, হারুন অর রশিদ, ওয়াজেদ আলী খান, আশরাফ উজ জামান খান, রুহুল কুদ্দুস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ জন আহত, ৩ জন হাসপাতালে ভর্তি, ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি, ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!