📌 টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাসিন্দা জোবায়ের আহমেদ খান গাছ লাগানোর প্রতি অনন্য নেশায় মগ্ন। কর্মস্থল ঢাকায় হলেও ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটে যান তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চৌদ্দ হাজার চারা ও তালবীজ রোপণ করেছেন জোবায়ের। তাঁর লাগানো গাছগুলো এখন ছায়া ও ফল দিচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পরিচিত করাচ্ছে দুর্লভ বৃক্ষ প্রজাতির সঙ্গে
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাসিন্দা জোবায়ের আহমেদ খান গাছ লাগানোর প্রতি অনন্য নেশায় মগ্ন। কর্মস্থল ঢাকায় হলেও ছুটির দিনগুলোতে টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, সিলেট ও সুনামগঞ্জে গাছ লাগাতে ছুটে যান তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চৌদ্দ হাজার চারা ও তালবীজ রোপণ করেছেন জোবায়ের। তাঁর লাগানো গাছগুলো এখন ছায়া ও ফল দিচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পরিচিত করাচ্ছে দুর্লভ বৃক্ষ প্রজাতির সঙ্গে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আইন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত জোবায়ের আহমেদ খান গাছ লাগানোর প্রতি অনন্য নেশায় মগ্ন
- 📌 ছুটির দিনগুলোতে টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, সিলেট ও সুনামগঞ্জে গাছ লাগাতে ছুটে যান তিনি
- 📌 এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চৌদ্দ হাজার চারা ও তালবীজ রোপণ করেছেন
- 📌 তাঁর লাগানো গাছগুলো এখন ছায়া ও ফল দিচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পরিচিত করাচ্ছে দুর্লভ বৃক্ষ প্রজাতির সঙ্গে
📰 বিস্তারিত
ছুটির দিন হাতে গাছের চারা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জোবায়ের আহমেদ খান। কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা, কখনো রাস্তার ধারে, আবার কখনো পার্ক কিংবা কোনো আত্মীয়ের বাড়ির আশপাশে—সুযোগ পেলেই চারা রোপণ করেন তিনি। কর্মস্থল ঢাকায় হলেও ছুটির দিনগুলোতে টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, সিলেট ও সুনামগঞ্জে গাছ লাগাতে ছুটে যান।
২০০৮ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী থাকাকালীন স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী সংগঠনের রক্তদাতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের একটি করে গাছের চারা উপহার দিয়েছিলেন জোবায়ের। এরপর নিজেই চারা রোপণ শুরু করেন। টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কয়েকটি ফলদ গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে তাঁর এই উদ্যোগের শুরু।
জোবায়েরের কাজ পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে টাঙ্গাইলের সরকারি মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, তিনি নিজে ঘুরে ঘুরে গাছ লাগান। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারা রোপণ জোবায়েরের লাগানো গাছ রয়েছে টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজ, ঘাটাইলের জিবিজি কলেজ, গালা বীরসিংহ উচ্চবিদ্যালয়, হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণশাসন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ব্রাহ্মণশাসন মহিলা কলেজ, ঘাটাইল মাদ্রাসা ও উইজডম ভ্যালী স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
"জোবায়ের আমাদের প্রতিষ্ঠানে নাগলিঙ্গম, কনকচাঁপা, উদাল, পলাশসহ বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির গাছ লাগিয়েছেন। গাছগুলো এখন বড় হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব গাছের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।"
ঘাটাইলের হেলেনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক তালুকদার জানান, তাঁদের স্কুল, গ্রামের মসজিদ ও কবরস্থানের পাশে জোবায়ের বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩০টি আমগাছের চারা লাগিয়েছেন। গাছগুলো এখন ফল দিচ্ছে।
ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কের পাশে শিমুল, জারুল, নিম, হরীতকী, জাম, ছাতিম, অর্জুনসহ বিভিন্ন জাতের ১ হাজার ৫০০টির বেশি গাছের চারা লাগিয়েছেন তিনি। দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের রামডুবি এলাকায় সড়কের দুই পাশে দুই শতাধিক পলাশ, কাঞ্চন, শিমুল ও ছাতিমের চারা লাগিয়েছেন তিনি। রামডুবি-বীরগাঁও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে লাগিয়েছেন দুই শতাধিক আমগাছ। চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করেছেন আরও তিন শতাধিক ফল ও ফুলের গাছ।
সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল, আদালত চত্বর, আলিয়া মাদ্রাসা ও দলদল চা-বাগান এলাকায় পাঁচ শতাধিক গাছের চারা লাগিয়েছেন তিনি। ছাতক উপশহর এলাকায় লাগিয়েছেন দুই শতাধিক শিমুলের চারা। জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল রেলপথের পাশে গত তিন বছরে প্রায় ছয় হাজার তালের বীজ রোপণ করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জোবায়ের আহমেদ খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ হাজার, ৩০টি, ৩০০ ফিট, ১ হাজার, ৫০০টি, ৬ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!