📌 ৬ আগস্ট ২০২৬ রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে জুমচাষের গুরুত্ব ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। চাকমা সার্কেল প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় সহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা জুমচাষকে কৃষি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তুলে ধরেন
রাঙামাটি, ৬ আগস্ট ২০২৬: পার্বত্য অঞ্চলের জুমচাষকে কৃষি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জুমচাষকে শুধু কৃষি হিসেবে নয়, পরিবেশ, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহ্য হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- 📌 জুমচাষের মাধ্যমে উৎপাদিত রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের বাজার চাহিদা ব্যাপক হওয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- 📌 জুমচাষের ইতিবাচক দিক তুলে ধরতে প্রচারণা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবকে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- 📌 জুমচাষকে কৃষিপদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি প্রণোদনার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও প্রথম আলোর উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাহাড়ে জুমচাষের গুরুত্ব: বাস্তবতার আলোকে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলের জুমচাষের গুরুত্ব ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজা দেবাশীষ রায়, চিফ চাকমা সার্কেল; দীপেন দেওয়ান, সংসদ সদস্য, পার্বত্য রাঙামাটি; কাজল তালুকদার, চেয়ারম্যান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা।
জুমচাষকে শুধু কৃষি হিসেবে বিবেচনা না করে পরিবেশ, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহ্য হিসেবে দেখার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সমতলের কৃষির সঙ্গে পাহাড়ের জুমচাষের তুলনা না করে এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়। জুমচাষের মাধ্যমে উৎপাদিত রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের মূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। তবে সঠিকভাবে বাজারজাত করা গেলে এটি পাহাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
জুমচাষকে অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য গবেষক, কৃষিবিদ, অর্থনীতিবিদ, কৃষি মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, "জুমচাষকে শুধু কৃষি হিসেবে দেখলে হবে না; বন, জীববৈচিত্র্য, বন্য প্রাণী, পাখি, মানুষের জীবনযাপন ও সংস্কৃতিকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। তাহলেই এর প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব।"
কাজল তালুকদার বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূপ্রকৃতি এমন যে, এখানে জুমচাষ কোনো বিকল্প নয়; বরং প্রয়োজন। ব্রিটিশ আমল থেকে বন বিভাগের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে জুমচাষকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এটি পাহাড়ের মানুষের জীবন, খাদ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।"
"জুমচাষের সবচেয়ে বড় অবদান শুধু উৎপাদনে নয়; পুষ্টিনিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য ও বহু দেশীয় ঔষধি উদ্ভিদ সংরক্ষণেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি।" — রাজা দেবাশীষ রায়, চিফ চাকমা সার্কেল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙামাটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজা দেবাশীষ রায়, দীপেন দেওয়ান, কাজল তালুকদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ (আগস্ট), ২০ (বছর), ১১ (টি জেলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!