📌 যশোরের চার উপজেলায় নির্মাণাধীন আটটি সেতুর উচ্চতা নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম হওয়ায় নৌপথ বন্ধ ও স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত এসব সেতুর প্রকৌশলগত ভুল ও দুর্নীতির দায় এড়ানো যাচ্ছে না। সরকারের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা
যশোর জেলার চারটি উপজেলায় অবস্থিত চারটি নদীর ওপর নির্মাণাধীন আটটি সেতুর উচ্চতা নির্ধারিত মাপের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় প্রকৌশলগত ভুল ও সরকারি অর্থের অপচয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) গেজেট অনুযায়ী, নদীর সর্বোচ্চ পানির স্তর থেকে সেতুর গার্ডারের ব্যবধান কমপক্ষে ১৫ ফুট হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এসব সেতুতে তা কোথাও ৬ ফুট, কোথাও ৮ ফুট পর্যন্ত দেখা গেছে। ফলে নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোরের চার উপজেলায় নির্মাণাধীন আটটি সেতুর উচ্চতা নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম হওয়ায় নৌপথ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে
- 📌 বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত এসব সেতুর প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৪১ কোটি ৭১ লাখ টাকা
- 📌 ২০১৮-১৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের অধিকাংশ সেতুর নির্মাণ কাজ এখনো চলমান রয়েছে
- 📌 আদালতের নির্দেশ ও বিআইডব্লিউটিএর বারবার আপত্তির পরও কাজ বন্ধ না হওয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে
📰 বিস্তারিত
২০১৮-১৯ সালে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে শুরু হওয়া এসব সেতুর নির্মাণ কাজে বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বিআইডব্লিউটিএ একাধিকবার চিঠি ও থানায় অভিযোগ দাখিল করলেও কাজ বন্ধ হয়নি। ভৈরব, বেতনা, শ্রী ও মুক্তেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত এসব সেতুর মধ্যে একটির কাজ প্রায় শেষ হলেও অন্য পাঁচটির অগ্রগতি ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত। দুটি সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি যথাক্রমে ৬০ ও ৩২ শতাংশ। ভৈরব নদীর তিনটি সেতুর কাজের অগ্রগতি ৬০, ৮০ ও ৩২ শতাংশ; বেতনা নদীর দুটির ৮৬ ও ৯২ শতাংশ; মুক্তেশ্বরী নদীর দুটির ৮৪ ও ১০০ শতাংশ এবং শ্রী নদীরটির ৯৫ শতাংশ।
২০২৪ সালের মে মাসে হাইকোর্ট যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করে সেতু নির্মাণ এবং সাময়িকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। প্রকৌশলীরা ছয় মাসের মধ্যে নীতিমালা মেনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এলজিইডির প্রকৌশলীরা এসব সেতু পরিদর্শন করে নকশা সংশোধনের তথ্য সংগ্রহ করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রেন দিয়ে গার্ডার তুলে পিলারের উচ্চতা বৃদ্ধি করে পুনরায় পাটাতন বসানোর কথা থাকলেও বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদনের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন করা হয়নি।
বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এসব সেতুর নির্মাণ কাজে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করলেও সাবেক একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন না নেওয়ার কারণ হিসেবে ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। নকশা শাখার কর্মকর্তারা অবশ্য দায় স্বীকার করলেও দাবি করেছেন যে তখনকার কর্মকর্তারা অবসরে চলে যাওয়ায় এখন সেতুগুলো শেষ করা ব্যতীত উপায় নেই।
"নদী, নৌপথ ও নির্ধারিত উচ্চতার মতো মৌলিক বিষয় নকশায় বিবেচনা করতে না পারলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের প্রকৌশল জ্ঞানই বা কী কাজে লাগল?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর জেলার চার উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাগণ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ ফুট (নির্ধারিত উচ্চতা), ৬ ফুট ও ৮ ফুট (বাস্তব উচ্চতা), ৪১ কোটি ৭১ লাখ টাকা (ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!