📌 জামালপুরের কলেজ শিক্ষক হাসমত আলী ১২ বিঘা জমিতে বিরল ও বিপন্ন উদ্ভিদের উদ্যান গড়ে তুলেছেন। জাতীয় পরিবেশ পদক জয়ী এই প্রকৃতিপ্রেমী তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের বিরোধিতা উপেক্ষা করে গড়ে তুলেছেন দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ উদ্যান ও প্রজাপতি পার্ক। উদ্যানটিতে রয়েছে ৭০০ প্রজাতির ৫ হাজার উদ্ভিদ
জামালপুরের কলেজ শিক্ষক হাসমত আলী তাঁর ১২ বিঘা জমিতে বিরল ও বিপন্ন উদ্ভিদের উদ্যান গড়ে তুলেছেন। জাতীয় পরিবেশ পদক জয়ী এই প্রকৃতিপ্রেমীর উদ্যানটি এখন পরিচিতি পেয়েছে দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ উদ্যান নামে। উদ্যানটির মধ্যে রয়েছে প্রজাপতি পার্কও।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জামালপুরের কলেজ শিক্ষক হাসমত আলী নিজের ১২ বিঘা জমিতে বিরল উদ্ভিদের উদ্যান গড়ে তুলেছেন
- 📌 উদ্যানটির নাম দেওয়া হয়েছে দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ উদ্যান
- 📌 উদ্যানটিতে রয়েছে প্রায় ৭০০ প্রজাতির ৫ হাজার উদ্ভিদ
- 📌 উদ্যানটির মধ্যে রয়েছে একটি প্রজাপতি পার্ক, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি দেখা যায়
- 📌 উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন
- 📌 হাসমত আলী ২৫০ টাকায় একটি সাইকাস পামের চারা কিনেছিলেন, যা এখন বিশাল বৃক্ষ
- 📌 পরিবারের বিরোধিতা উপেক্ষা করে তিনি তাঁর স্বপ্নের উদ্যান গড়ে তুলেছেন
📰 বিস্তারিত
জামালপুরের কলেজ শিক্ষক হাসমত আলী তাঁর স্বপ্নের উদ্যান গড়ে তুলেছেন নিজের ১২ বিঘা জমিতে। বিরল ও বিপন্ন উদ্ভিদ সংরক্ষণের স্বপ্ন নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ উদ্যান। উদ্যানটির মধ্যে রয়েছে প্রজাপতি পার্কও, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি দেখা যায়।
কলেজ জীবনে হাসমত আলী জামালপুর শহরে গিয়েছিলেন শার্ট কিনতে। সেখানে একটি নার্সারিতে সাইকাস পামের চারা দেখে মনে ধরে যায়। দাম জিজ্ঞেস করে হিসাব কষে দেখেন, গাছটি কিনলে আর শার্ট কেনা হবে না। শেষ পর্যন্ত শার্ট না কিনে ২৫০ টাকায় সাইকাস পামের চারাটি কিনেই বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। ৩৭ বছর পর সেই গাছটি এখন বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে।
হাসমত আলী বলেন, ‘গাছটির দিকে তাকালে মনটা ভরে যায়।’ তাঁর উদ্যানটিতে রয়েছে প্রায় ৭০০ প্রজাতির ৫ হাজার উদ্ভিদ। উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ উদ্যান। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন উদ্যানটির উদ্বোধন করেছিলেন।
উদ্যানটির মধ্যে রয়েছে দুটি পুকুর। হাসমত আলী বলেন, ‘চিন্তা করলাম, এটাকে যদি একটা উদ্যান করতে হয়, তাহলে একটা জলাশয় দরকার। পানি না থাকলে পাখি বা অন্য প্রাণীও থাকবে না। তাই এখানে একটা পুকুর করলাম।’
পরিবারের বিরোধিতা উপেক্ষা করে তিনি তাঁর স্বপ্নের উদ্যান গড়ে তুলেছেন। তাঁর স্ত্রীও কলেজ শিক্ষক। তাঁর স্ত্রীকে অনেকে বলতেন, ‘তোমার জামাই এগুলো কী করছে? কিছু বলো না? পাগলামি শুরু করেছে!’ কিন্তু হাসমত আলী তাঁর সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
উদ্যানটিতে রয়েছে গুটগুটিয়া, কানাইডিঙ্গা, বৈলাম, উরিআম, কুরচি, কন্যারি, মাইলাম, চালমগরা, বাঁশপাতা, ডাকরুম, তাসবি, কেয়ামন, তুন, শিলবাটনা, রক্তন, কামদেব, রিটা, চিকরাশি, নাগলিঙ্গমসহ নানা প্রজাতির গাছ।
‘তোমার জামাই এগুলো কী করছে? কিছু বলো না? পাগলামি শুরু করেছে!’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জামালপুর, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাসমত আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ বিঘা জমি, ৭০০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৫ হাজার উদ্ভিদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!