📌 গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের দূষণমুক্তকরণ প্রকল্প ১৬ বছর বিলম্বিত হয়ে ৫৫০ কোটি টাকার বাজেটে ব্যর্থ হয়েছে। অনিয়ম, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে লেকের দূষণ নিয়ন্ত্রণে সফলতা না পাওয়ায় সাত স্থানে সুয়ারেজ লাইন সরাসরি লেকে প্রবেশ করছে। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন
গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের দূষণমুক্তকরণ প্রকল্প ১৬ বছর বিলম্বিত হয়ে ৫৫০ কোটি টাকার বাজেটে ব্যর্থতা পেয়েছে। রাজধানীর সবচেয়ে অভিজাত এলাকার এই লেকের দূষণ নিয়ন্ত্রণে সফলতা না পাওয়ায় এখনো সাতটি স্থানে সরাসরি সুয়ারেজ লাইন লেকে প্রবেশ করছে। প্রকল্পের অনিয়ম, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে লেকের পরিবেশ আরও খারাপ হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের দূষণমুক্তকরণ প্রকল্প ২০১০ সাল থেকে শুরু হলেও ১৬ বছর বিলম্বিত হয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
- 📌 প্রকল্পের বাজেট প্রথমে ৪১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা ছিল, পরে বাড়িয়ে ৫৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
- 📌 প্রকল্পের ২৩টি অডিট আপত্তির মধ্যে মাত্র ৯টি নিষ্পন্ন হয়েছে; বাকি ১৬৬ কোটি টাকার আর্থিক অঙ্কের আপত্তি অনিষ্পন্ন রয়েছে।
- 📌 লেকের ৯ কিলোমিটার মধ্যে মাত্র ২.৫ কিলোমিটার অংশ থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে, বাকি অংশে পলি ও বর্জ্য জমে রয়েছে।
- 📌 প্রকল্পের সময় লেকের জায়গা বরাদ্দ দিয়ে বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করেছে।
📰 বিস্তারিত
গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের দূষণমুক্তকরণ প্রকল্পের বাস্তবায়নে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবের কারণে ব্যর্থতা পেয়েছে। প্রকল্পের সময়সীমা তিনবার বাড়ানো হয়েছে, প্রথমে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল, পরে ২০২৫ সাল পর্যন্ত, এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের বাজেটও তিনবার বাড়ানো হয়েছে, প্রথমে ৪১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে উত্থাপিত অডিট আপত্তির মধ্যে রয়েছে লেক খনন ও মাটি ভরাট ছাড়াই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা, বেশি কাজ দেখিয়ে ভুয়া বিল তৈরি করা এবং ড্রাইভওয়ে নির্মাণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মিতভাবে অর্থ পরিশোধ করা। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ছাবের আহমেদ বলেছেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, ঢাকা ওয়াসার সুয়ারেজ লাইনগুলো ঠিক করলে লেকের পানির অবস্থা উন্নত হবে।
বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেছেন, প্রকল্পের সময় লেকের জায়গা ভরাট করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেছেন, প্রকল্পের অনেক অর্থ অপচয় হয়েছে এবং কিছু সুবিধাভোগী রয়েছে।
"এই প্রকল্প নিয়ে নাটক অনেক আগে থেকে চলছে। প্রকল্পের সময় লেকের জায়গা ভরাট করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনেক অর্থ অপচয় করা হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। এসব অনিয়মের কিছু সুবিধাভোগী রয়েছে।"
প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেকের অন্তত সাতটি স্থানে সরাসরি সুয়ারেজ ও ড্রেনেজ লাইন সংযুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লেকের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ওয়াসার পূর্বপরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুলশান, বনানী, বারিধারা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রকল্প পরিচালক ছাবের আহমেদ, স্থপতি ইকবাল হাবিব, আইএমইডি কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ বছর (বিলম্ব), ৫৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা (বাজেট), ২৩টি (অডিট আপত্তি), ৯টি (নিষ্পন্ন আপত্তি), ১৬৬ কোটি টাকা (অনিষ্পন্ন আর্থিক অঙ্ক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!