📌 এলএনজি কার্গোর অভাবে দেশে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে জনজীবনে ভোগান্তি চরমে।
বুধবার দেশে এলএনজি কার্গোর অভাবে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে এবং দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এসব লোডশেডিংয়ে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বুধবার বেলা তিনটায় এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায় এলএনজি কার্গোর অভাবে
- 📌 সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়
- 📌 রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে
- 📌 দেশে দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ ছিল মাত্র ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট
📰 বিস্তারিত
বুধবার দেশে এলএনজি কার্গোর অভাবে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। দেশীয় কূপ থেকে পাওয়া গ্যাসসহ মোট সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। ছয় ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে। দেশীয় গ্যাস সামান্য কমে ১৬২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুটে নামে। ফলে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট।
সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সন্ধ্যায় সরবরাহ ছিল ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। ফলে ঘাটতি ছিল ১৬১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ১৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল মাত্র ১১৭ মেগাওয়াট। বেলা দুইটায় চাহিদা ১৫ হাজার ২০৬ মেগাওয়াটে উঠলেও সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ১৩৯ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭ মেগাওয়াটে। বিকেল পাঁচটায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এ সময় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮০৪ মেগাওয়াট।
সন্ধ্যায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। সন্ধ্যা সাতটায় চাহিদা বেড়ে ১৭ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট হলে সরবরাহ নেমে আসে ১৪ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াটে। এ সময় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াট। রাত ৯টায়ও লোডশেডিংয়ের মাত্রা ছিল ২ হাজার ৪৪৩ মেগাওয়াট। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
"গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিদ্যুৎ খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮০ কোটি ঘনফুট (দৈনিক গ্যাস চাহিদা), ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট (সন্ধ্যায় সরবরাহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!