📌 বিএনপি সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানসহ তিনজনকে নিয়োগ দিয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা এই নিয়োগকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে শূন্যতার পর বিএনপি সরকার তিনজনকে নিয়োগ দিয়েছে। গত সোমবার রাতে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম খান ও মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুদকের চেয়ারম্যান পদে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নিয়োগ নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন
- 📌 সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বিচার বিভাগীয় বা লাভজনক পদে নিয়োগে বিধিনিষেধ রয়েছে
- 📌 দুদক কোনো বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান নয় বিধায় এর চেয়ারম্যান পদ লাভজনক হিসেবে বিবেচিত
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক নিয়োগটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন
- 📌 সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়াও নিয়োগটিকে অসাংবিধানিক বলে মত দিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে দীর্ঘদিন ধরে শূন্যতা বিরাজ করছিল। গত সোমবার রাতে সরকার নতুন তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই শূন্যতার অবসান ঘটায়। দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম খান ও মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।
তবে এই নিয়োগ নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বিচার বিভাগীয় বা লাভজনক পদে নিয়োগে বিধিনিষেধ রয়েছে। দুদক কোনো বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান নয় বিধায় এর চেয়ারম্যান পদকে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ রিদওয়ানুল হক তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিয়োগটিকে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একটি অসাংবিধানিক পদক্ষেপ। এটি সরাসরি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান সরকার স্পষ্টতই গণতন্ত্রের বিপরীত পথে রয়েছে।’
একই মত প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দুদক চেয়ারম্যানের পদ স্পষ্টতই একটি লাভজনক পদ। এটি বিচার বিভাগীয় বা আধা বিচার বিভাগীয় কোনো পদ নয়। তাই আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
উল্লেখ্য, বিএনপি সরকার তার আগের মেয়াদে (২০০১-০৬) হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি সুলতান হোসেন খানকে দুদকের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। সেই সময়েও বিষয়টি নিয়ে আদালতে রিট করা হয়েছিল।
‘সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একটি অসাংবিধানিক পদক্ষেপ। কারণ, এটি সরাসরি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে।’ — রিদওয়ানুল হক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এ কে এম আসাদুজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম খান, মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া, রিদওয়ানুল হক, শরীফ ভূঁইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদের ধারা ১ ও ২, ২৭ আগস্ট ২০০৩, ২৭ আগস্ট ২০০৫, ২৫ মার্চ ২০২৫, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!