📌 শ্রবণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধিতার বিরুদ্ধে লড়াই করে অনার্স শেষ করেছেন ফরিদুল ইসলাম। অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থানের অভাব তাঁর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে। সরকারি সহায়তা পেলে তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদী
শ্রবণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে অনার্স শেষ করেছেন নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের দক্ষিন বিশমুড়ী পাইলাভাঙ্গা গ্রামের ফরিদুল ইসলাম (৩৮)। দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি থেমে থাকেননি। তাঁর পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সন্তান। সরকারি সহায়তা বা কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শ্রবণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধিতা সত্ত্বেও অনার্স শেষ করেছেন ফরিদুল ইসলাম (৩৮)
- 📌 পাঁচ বছর বয়সে হঠাৎ করেই শ্রবণশক্তি হারান এবং শারীরিক প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত হন
- 📌 পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেননি
- 📌 কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজে দক্ষ হলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাননি প্রতিবন্ধী কোটায়
- 📌 সরকারি সহায়তা পেলে নিজের পরিবারকে সচ্ছল করতে চান ফরিদুল
📰 বিস্তারিত
ফরিদুল ইসলামের জীবন সংগ্রামের শুরু শৈশব থেকেই। তাঁর বয়স যখন মাত্র পাঁচ থেকে ছয় বছর, তখনই হঠাৎ করেই শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে তাঁর শরীরও বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে। স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করলেও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তা চালিয়ে যেতে পারেননি। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম একজন কৃষি শ্রমিক, আর মা ফরিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও অন্যান্য জটিল রোগে ভুগছেন। ফলে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে।
তবে ফরিদুল থেমে থাকেননি। তিনি তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যান। ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করেছেন তিনি। তাঁর প্রতিবেশী আইয়ব আলী (৫০) বলেন, "ছাত্র হিসেবে সে যথেষ্ট মেধাবী। ছোটবেলায় ভালোই ছিল, কিন্তু হঠাৎ দুই কানে কম শুনতে পায় এবং দুই পা বাঁকা হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে অনেক চিকিৎসা করিয়েও আর সম্ভব হয়নি। দারিদ্র্যের কারণে তাঁর শিক্ষাজীবন ও দৈনন্দিন জীবন যাপন খুবই কষ্টসাধ্য ছিল।"
ফরিদুল কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজেও দক্ষ। কম্পিউটার প্রশিক্ষক লিমন বলেন, "শুধু পড়াশোনাই নয়, পাশাপাশি মাইক্রোসফট এক্সেল, ফটোকপি, ছবি প্রিন্টসহ কম্পিউটারের অনেক কাজে তিনি দক্ষ। কিন্তু কানে কম শোনার কারণে চাকরির জন্য অনেক আবেদন করেও কোথাও সুযোগ পাননি।"
রামনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বেলায়েত হোসেন বলেন, "প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়, বরং সহযোগিতা পেলে তারা দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারেন। ফরিদুলের যথেষ্ট মেধা আছে। তিনি একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজও করতে পারেন।"
রামনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম বলেন, "প্রতিবন্ধী কোটা বা বিশেষ সহায়তার মাধ্যমে ফরিদুলের মতো মেধাবী ও সংগ্রামী যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব। সে আর দশজন প্রতিবন্ধির মতো সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে পারতো।"
"আমি মার্স্টাস পড়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে হয়তো পারব না। আমার একটাই চাওয়া, সরকার বা কোনো হূদয়বান ব্যক্তি যদি আমাকে একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে আমি ডাল ভাত খেয়ে জীবন যাপন করতে পারতাম এবং বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতাম। আমি কারো ঘাড়ের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রামনগর ইউনিয়ন, নীলফামারী সদর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরিদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ বছর, ৫০ বছর, ৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!