📌 ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫৪টি নদী ও শত শত খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, মিষ্টি পানির অভাবে সুন্দরবন ও এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি বিপদে পড়েছে। ভারতকে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালে পলির জমা ও লবণাক্ততার সমস্যা ক্রমাগত বাড়ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) খুলনা সিটি করপোরেশনের একটি অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন। তিনি জানান, ওপর থেকে পানির প্রবাহ না থাকায় নিচ থেকে আসা পলি জমে প্রায় ৫৪টি নদী ও কয়েকশ খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে** দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের **৫৪টি নদী ও শত শত খাল ভরাট** হয়ে যাচ্ছে, পলির জমা ও লবণাক্ততা বাড়ছে
- 📌 প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, **মিষ্টি পানির অভাবে সুন্দরবনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত** হচ্ছে
- 📌 **ভারতকে বাংলাদেশের প্রাপ্য মিষ্টি পানির হিস্যা দিতে** বলেছেন প্রতিমন্ত্রী, শুধু আলোচনা নয়, **কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি** জানিয়েছেন
- 📌 **২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যে** সরকার ৩ কোটি গাছ লাগিয়েছে, **৫ কোটি গাছের লক্ষ্য** ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
- 📌 **১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ** লাগানো হয়েছে বজ্রপাত মোকাবিলায়, **উঁচু গাছের সংখ্যা বাড়ানোর** পরিকল্পনা রয়েছে
- 📌 **শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত** করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালে পলির জমা ও লবণাক্ততার সমস্যা ক্রমাগত বাড়ছে। তিনি বলেন, ওপর থেকে পানির প্রবাহ না থাকায় নিচ থেকে আসা পলি জমে প্রায় ৫৪টি নদী ও শত শত খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া লবণাক্ততা বাড়ছে, যা সুন্দরবন ও এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় বিপদসূচক। তিনি বলেন, "মিষ্টি পানি না এলে সাগরের লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানির সংযোগস্থলে সুন্দরীসহ সুন্দরবনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু আলোচনা বা কূটনৈতিক বক্তব্যে সমাধান হবে না। ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে **কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে**। তিনি জানান, সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি আরও বলেন, "মানুষের বা কোনো দেশের হস্তক্ষেপে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে সুন্দরবন রক্ষা কঠিন হবে।"
সুন্দরবনের পাশে থাকা লাল শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, সরকার **২৫ কোটি গাছ লাগানোর** পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে **৩ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে**। আরও **২ কোটি কেওড়ার চারা ও বীজ** প্রস্তুত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় এসব রোপণ করা হবে। **৫ কোটি গাছের লক্ষ্য** ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তিনি বলেন, "নির্বিচারে বৃক্ষরোপণ নয়, কোন এলাকায় কোন গাছ লাগানো হবে তা নির্ধারণ করে সুষম বৃক্ষায়ন করা হবে।"
বজ্রপাত মোকাবিলায় **১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ** লাগানো হয়েছে যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরায়। তিনি বলেন, তাল, নারকেলসহ উঁচু গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৈদ্যুতিক বাস চালুর মতো প্রকৃতিনির্ভর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়; নদী-খাল পুনরুদ্ধার, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমানোও।
প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ বন্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে সম্পৃক্ত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।" তিনি জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
"শুধু আলোচনা বা কূটনৈতিক বক্তব্যে মিষ্টি পানির সংকটের সমাধান হবে না; ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা সিটি করপোরেশন (সোনাডাঙ্গা), যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা, সাতক্ষীরা, সুন্দরবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ ফরিদুল ইসলাম (পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪টি নদী, ৩ কোটি গাছ, ২ কোটি চারা, ৫ কোটি গাছের লক্ষ্য, ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!