📌 বাংলাদেশে পারিবারিক দেখেশোনায় বিয়ে করা দম্পতির সংখ্যা বেশি হলেও প্রেমের বিয়ে করা দম্পতিদের মধ্যে সুখের হার বেশি বলে উঠে এসেছে নিপসমের এক গবেষণায়। দেশের অর্ধেকেরও বেশি পরিবারে পারস্পরিক সংহতি দুর্বল বলে জানা গেছে।
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় বাংলাদেশের পারিবারিক সম্পর্কের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রতি চারজন দম্পতির মধ্যে তিনজন অর্থাৎ ৭৫ শতাংশই পারিবারিক দেখেশোনায় বিয়ে করেছেন। অন্যদিকে প্রেমের বিয়ে করেছেন মাত্র ২৫ শতাংশ দম্পতি। তবে বিয়ের ধরন যাই হোক না কেন, দেশের অর্ধেকেরও বেশি পরিবারে পারস্পরিক সংহতি দুর্বল বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে প্রতি চারজন দম্পতির তিনজনই পারিবারিক দেখেশোনায় বিয়ে করেছেন
- 📌 দেশের ৫০ শতাংশ দম্পতির পরিবারে পারস্পরিক সংহতি দুর্বল বলে গবেষণায় উঠে এসেছে
- 📌 কাঁচা ঘরে বসবাসকারী পরিবারগুলোতে পারিবারিক বন্ধন মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা পাকা দালানের তুলনায় ১.৬৩ গুণ বেশি
- 📌 যেসব দম্পতির মধ্যে সমানাধিকার ও শ্রদ্ধা রয়েছে, তাদের পরিবারে অটুট বন্ধন গড়ে ওঠার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় ৬২ গুণ বেশি
- 📌 নিজের আয় থাকলে পরিবারে বন্ধন মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা ১.৬৫ গুণ বাড়ে
📰 বিস্তারিত
নিপসমের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহরিয়া সাত্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের পারিবারিক সম্পর্কের চিত্র বেশ উদ্বেগজনক। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী দম্পতিদের মধ্যে মাত্র ২৪.৮ শতাংশ পারস্পরিক সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারছেন। বাকি অর্ধেকেরও বেশি দম্পতির সম্পর্ক ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমানাধিকার, শ্রদ্ধা ও খোলামেলা যোগাযোগই সুখী পরিবারের মূল ভিত্তি।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, কাঁচা ঘরে বসবাসকারী পরিবারগুলোতে পারিবারিক বন্ধন মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা পাকা দালানের তুলনায় ১.৬৩ গুণ বেশি। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, কাঁচা ঘরের খোলামেলা পরিবেশ ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ বেশি থাকে। অন্যদিকে উঁচু দালানে বসবাস করলে মানুষের মধ্যকার মানসিক দূরত্ব বাড়তে থাকে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশের আটটি বিভাগের ১৬টি জেলার শহর ও গ্রামের ১ হাজার ৬৪০ জন বিবাহিত নারী-পুরুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গবেষণাটি ছয় মাস ধরে পরিচালিত হয়। গবেষক দলের অন্যান্য সদস্য ছিলেন ডা. মো. আশরাফুল আলম, ডা. এস এম শরফ-উল-আলম ও ডা. শুভ্রতিথি গোস্বামী।
"সুস্থ ও সংহত বাংলাদেশ গড়তে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সমতা, শ্রদ্ধা ও খোলামেলা যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শাহরিয়া সাত্তার, ডা. মো. আশরাফুল আলম, ডা. এস এম শরফ-উল-আলম, ডা. শুভ্রতিথি গোস্বামী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ শতাংশ, ৫০ শতাংশ, ১.৬৩ গুণ, ৬২ গুণ, ১ হাজার ৬৪০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!