📌 বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার পালিত হবে। যশোরের মাছিমদিয়া এলাকায় তার স্মরণে কোরআন খতম, শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে
বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার যশোরের নড়াইল শহরে স্মরণীয় কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হবে। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর এই অসাম্প্রদায়িক শিল্পী যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিরনিদ্রায় প্রবেশ করেন। তার জন্মস্থান নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম-মাছিমদিয়া এলাকায় বাড়ির আঙ্গিনায় তাকে কবর দেয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৬টায় কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হবে মাছিমদিয়া এলাকায়
- 📌 সকাল ৯টায় চিত্রশিল্পী সুলতানের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে
- 📌 সকাল ১০টায় আলোচনা অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে
- 📌 জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম জানান, কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে
- 📌 শিল্পী সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন
- 📌 তার বিখ্যাত ছবির মধ্যে রয়েছে ‘পাট কাটা’, ‘ধানকাটা’, ‘জলকে চলা’, ‘গ্রামের খাল’ ইত্যাদি
- 📌 ১৯৫০ সালে ইউরোপের প্রদর্শনীতে তার ছবি পাবলো পিকাসো ও সালভেদর দালির ছবির সাথে প্রদর্শিত হয়
- 📌 তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন
- 📌 শিল্পী সুলতানের আজীবনের স্বপ্ন ছিল শিশুদের প্রকৃতি ও শিল্পের সাথে পরিচয় করানো
📰 বিস্তারিত
বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও এস এম সুলতান কমপ্লেক্স দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল ৬টায় কোরআন খতম, সকাল ৯টায় কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় আলোচনা অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম জানান, কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে।
চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ছিল মো: মেছের আলি এবং মা নাম ছিল মোছা: মাজু বিবি। শিল্পীকে বাবা-মা আদর করে ‘লাল মিয়া’ নামে ডাকতেন। তিনি ‘মাটি ও মানুষের শিল্পী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিখ্যাত ছবির মধ্যে রয়েছে ‘পাট কাটা’, ‘ধানকাটা’, ‘জলকে চলা’, ‘গ্রামের খাল’, ‘মৎস্য শিকার’, ‘গ্রামের দুপুর’, ‘নদী পারাপার’, ‘ধান মাড়াই’, ‘জমি কর্ষনে যাত্রা’, ‘মাছ ধরা’, ‘নদীর ঘাটে’, ‘ধান ভানা’, ‘গুন টানা’, ‘ফসল কাটার ক্ষণে’, ‘শরতের গ্রামীণ জীবন’, ‘শাপলা তোলা’ ইত্যাদি।
১৯৫০ সালে ইউরোপের যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালীন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, সালভেদর দালিসহ বরেণ্য শিল্পীদের ছবির সাথে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীদের ছবির সাথে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে তার একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।
শিল্পী সুলতানের আজীবনের স্বপ্ন ছিল শিশুদের নিয়ে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি নিজের সঞ্চিত অর্থে শহরের মাছিমদিয়া এলাকায় চিত্রা নদীর পাড়ে ‘শিশুস্বর্গ’ নামে ভাসমান নৌকা তৈরি করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের সাথে নিয়ে প্রকৃতি দেখানো এবং তাদের প্রকৃতির সাথে পরিচয় করানো।
"চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নড়াইল শহর, যশোর, মাছিমদিয়া এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ (মৃত্যুবার্ষিকী), ১০ (অক্টোবর), ৬ (টা), ৯ (টা), ১০ (টা), ১৯২৪ (জন্মবর্ষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!