📌 এগারো বছর ধরে প্রতি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার একসঙ্গে খাওয়ার নিয়ম ধরে রেখেছেন দুই বোন ইলা আর নীলা। জীবনের উত্থান-পতনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সেই আড্ডাও পাল্টেছে বারবার।
ধানমন্ডির এক রেস্তোরাঁয় চিকেন ফ্রাই আর ফ্রায়েড রাইস খেতে খেতে দুই বোন ইলা আর নীলার মধ্যে শুরু হয়েছিল তাদের এগারো বছরের আড্ডার নিয়ম। নীলার প্রথম বেতনের দিন থেকেই শুরু হওয়া সেই নিয়ম আজও চলছে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সেই আড্ডার ধরন পাল্টেছে বারবার, তবে একটা জিনিস রয়ে গেছে অপরিবর্তিত—তাদের মধ্যে থাকা ভালোবাসা আর নির্ভরতা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুই বোন ইলা আর নীলার এগারো বছরের পুরোনো নিয়ম: প্রতি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার একসঙ্গে খাওয়া
- 📌 নিয়মের শুরু হয়েছিল নীলার প্রথম বেতনের দিন থেকে
- 📌 জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের আড্ডার ধরন পাল্টেছে—ফ্রায়েড রাইস থেকে ফুচকা, চা, এমনকি পার্কের বেঞ্চেও
- 📌 শহরের ব্যস্ততা আর জীবনের চাপের মধ্যেও তারা ধরে রেখেছেন নিজেদের সেই নিয়ম
📰 বিস্তারিত
ধানমন্ডির এক রেস্তোরাঁয় প্রথমবার একসঙ্গে খাওয়ার সময় থেকেই শুরু হয়েছিল ইলা আর নীলার সেই বিশেষ নিয়ম। নীলার প্রথম বেতনের দিন অফিস থেকে বেরিয়ে ইলাকে ফোন করে বলেছিল, ‘রেডি হ। আজ তোকে খাওয়াব।’ ইলা অবশ্য প্রথমে রাজি হয়নি। কিন্তু নীলার যুক্তি ছিল এতটাই সরল আর গ্রহণযোগ্য যে ইলা আর তর্ক করেনি। সেই দিন তারা খেয়েছিল চিকেন ফ্রাই, ফ্রায়েড রাইস আর কোল্ড ড্রিঙ্কস। বিল আসার পর নীলা বলেছিল, ‘পরের মাসেও আসব।’ আর ইলা যখন বিলটা আবার দেখতে বলেছিল, তখন নীলা জানিয়েছিল, ‘পরের মাসে তুই দিবি।’
তারপর থেকে দুজনের জীবনে অনেক পরিবর্তন এলেও সেই নিয়মটা রয়ে গেছে। তাদের দুজনেরই চাকরি হয়েছে, বিয়ে হয়েছে, বাসা বদলেছে। নীলার মাথায় কয়েকটা সাদা চুলও এসেছে। ইলার ছেলে এখন ক্লাস ফাইভে পড়ে। কিন্তু প্রতি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবারটা তারা ভুলে যায়নি। শুধু পাল্টেছে তাদের খাওয়ার জায়গা আর ধরন। একসময় ফ্রায়েড রাইসের দাম বাড়লে তারা চলে গিয়েছিল ফুচকার দোকানে। সেখানে দশটা ফুচকা দুই প্লেটে ভাগ করে খেতে গিয়ে যখন দাম বাড়লো, তখন নীলা বলেছিল, ‘আমরা দুইটা ফুচকা কম খাব?’ ইলা উত্তর দিয়েছিল, ‘না। একটা তুই কম খাবি, একটা আমি বেশি খাব।’
তারপর তারা চলে গিয়েছিল চায়ের দোকানে। সেখানে দুধ-চা আর বিস্কুট ভাগ করে খেতে গিয়ে শেষ বিস্কুট নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা হতো। একদিন টিভিতে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞের কথা শুনে ইলা যখন জানতে চাইলো, ‘কী বাড়ছে বলল?’ তখন নীলা বলেছিল, ‘আমাদের বুঝি।’ চায়ের দাম বাড়লেও তারা থেমে থাকেনি। শেষ পর্যন্ত তারা গিয়েছিল পার্কের বেঞ্চে। যেখানে মেনু ছিল শুধু বাতাস, ধুলো আর বাদাম। সেখানেও তারা হেসে বলেছিল, ‘থাক। বাতাসই খাই।’
"আগে এক ঘণ্টা বসতাম। আজ দুই ঘণ্টা বসব। ওটা ক্রয়ক্ষমতা? আমাদেরটা।"
শহরের ব্যস্ততা আর জীবনের চাপের মধ্যেও তারা ধরে রেখেছেন নিজেদের সেই নিয়ম। ইলা যখন জিজ্ঞেস করলো, ‘আমরা কি তাহলে আর বাইরে খেতে আসি না?’ তখন নীলা উত্তর দিয়েছিল, ‘আসি তো।’ ইলা আবার জিজ্ঞেস করলো, ‘কী খাই?’ নীলা তখন হেসে বলেছিল, ‘একে অন্যের মাথা।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ধানমন্ডি, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইলা ও নীলা (দুই বোন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: এগারো বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!