📌 ডলফিনেরা ঘুমালেও এক চোখ খোলা রাখে কারণ তাদের মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ ঘুমায় আর বাকি অংশ জেগে থাকে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ইউনিহেমিস্ফেরিক স্লো-ওয়েভ স্লিপ। এই বিশেষ ঘুমের ধরন তাদের শ্বাসপ্রশ্বাস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে
সমুদ্রের গভীরে যখন ডলফিনেরা বিশ্রাম নেয়, তখন তাদের এক চোখ থাকে খোলা আর অন্যটি থাকে বন্ধ। এই অদ্ভুত অভ্যাসের পেছনে রয়েছে তাদের মস্তিষ্কের বিশেষ গঠন। মানুষের মতো পুরো মস্তিষ্ক ঘুমিয়ে গেলে ডলফিনেরা শ্বাস নিতে পারে না, কারণ তাদের ফুসফুস আছে কিন্তু ফুলকা নেই। তাই তাদের মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ জেগে থাকে বিশ্রামের সময়েও।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডলফিনেরা ঘুমালেও এক চোখ খোলা রাখে কারণ তাদের মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ ঘুমায় আর বাকি অংশ জেগে থাকে।
- 📌 বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ইউনিহেমিস্ফেরিক স্লো-ওয়েভ স্লিপ।
- 📌 ১৯৬৪ সালে জন সি লিলি প্রথম এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন।
- 📌 ডলফিনদের শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের জন্য অর্ধেক মস্তিষ্ক জেগে থাকা প্রয়োজন।
- 📌 তাদের ঘুমের সময়কাল দিনে প্রায় দশবার ছোট ছোট পর্বে বিভক্ত থাকে।
📰 বিস্তারিত
ডলফিনেরা স্তন্যপায়ী প্রাণী হওয়ায় তাদের ফুসফুস আছে, কিন্তু ফুলকা নেই। ফলে শ্বাস নেওয়ার জন্য তাদের নিয়মিত পানির ওপরে উঠতে হয়। মানুষের মতো তাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি অচেতন হয়ে গেলে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে তাদের মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ ঘুমায় আর বাকি অংশ জেগে থাকে। জেগে থাকা অংশের বিপরীত চোখটি খোলা থাকে, যাতে তারা চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
জন সি লিলি নামে এক গবেষক ১৯৬৪ সালে প্রথম এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে রুশ জীববিজ্ঞানী লেভ মুখামেতভ ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি বা ইইজি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে ডলফিনের মস্তিষ্কের দুই অংশ আলাদা আলাদা তরঙ্গ তৈরি করে। এক অংশ ধীর গতির ঘুমের তরঙ্গ তৈরি করে, আর অন্য অংশ দ্রুত গতির জাগরণের তরঙ্গ তৈরি করে। ফলে একই সময়ে তাদের মস্তিষ্কের দুই অংশ ভিন্ন অবস্থায় থাকে।
ডলফিনেরা দিনে প্রায় দশবার ছোট ছোট পর্বে ঘুমায়, প্রতিটি পর্ব এক ঘণ্টারও কম সময়ের হয়ে থাকে। বন্দী ডলফিনদের ওপর করা পর্যবেক্ষণ থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের এই ঘুমের ধরন শুধু শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের জন্যই নয়, বরং হাঙরের মতো শিকারিদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতেও সাহায্য করে। কারণ পুরো মস্তিষ্ক ঘুমিয়ে গেলে বিপদের আভাস পাওয়ার কোনো উপায় থাকত না।
"ডলফিনের মস্তিষ্কের দুই অংশ আলাদা আলাদা তরঙ্গ তৈরি করে। এক অংশ ধীর গতির ঘুমের তরঙ্গ তৈরি করে, আর অন্য অংশ দ্রুত গতির জাগরণের তরঙ্গ তৈরি করে। ফলে একই সময়ে তাদের মস্তিষ্কের দুই অংশ ভিন্ন অবস্থায় থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সমুদ্রের গভীর অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জন সি লিলি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দিনে প্রায় দশবার ঘুমের পর্ব
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!