📌 সংবিধানের প্রধান রচয়িতা ড. কামাল হোসেন স্বাধীনতা পদক না পাওয়ায় প্রবীণ অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস এমনভাবে চলে যেখানে মেধাবীদের সম্মান দেওয়া হয় না
বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেনকে স্বাধীনতা পদক না দেওয়ায় প্রবীণ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস এমনভাবে চলে যেখানে মেধাবী ও দেশসেবীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সংবিধানের প্রধান রচয়িতা ড. কামাল হোসেন স্বাধীনতা পদক পাননি, অথচ সংবিধান হস্তলিখনকারীকে মরণোত্তর পদক দেওয়া হয়েছিল
- 📌 প্রবীণ অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, দেশের ইতিহাস এমনভাবে চলে যেখানে যোগ্য ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়া সম্ভব হয় না
- 📌 ড. কামাল হোসেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বর্তমানে দলটির ইমেরিটাস সভাপতি
- 📌 রেহমান সোবহান জানান, ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫২ সালে ভাষা-আন্দোলনের সময় থেকে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেনকে স্বাধীনতা পদক না দেওয়ায় প্রবীণ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস এমনভাবে চলে যেখানে যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণফোরামের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ড. কামাল হোসেনকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রেহমান সোবহান জানান, ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫২ সালে ভাষা-আন্দোলনের সময় থেকে। তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে পরিচয় ছিল ছাত্রজীবন থেকেই। তখন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ড. কামাল প্রথম হন। ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের সহকর্মী হিসেবে রাজনীতিতে তাঁর প্রথম পদক্ষেপ পড়েছিল। এরপর তিনি পুরো জীবন গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং বাংলাদেশের অন্যতম নামকরা আইনজীবী হয়ে ওঠেন।
তিনি আরও বলেন, ড. কামাল হোসেনের আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে। একবার আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশ সরকার তাঁর নাম প্রস্তাব করেনি। তিনি বলেন, দেশ এমনভাবে চলে যেখানে যোগ্য ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়া সম্ভব হয় না।
"দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের ইতিহাসটা এভাবে চলে। লোকজন মাঝেমধ্যে বলে থাকেন, কামালকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া উচিত ছিল। গত সরকার সংবিধানের ড্রাফটম্যানকে স্বাধীনতা পদক দিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের ইতিহাসটা এভাবে চলে।"
রেহমান সোবহান বলেন, ড. কামাল হোসেন পুরো জীবন নীতিভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, নীতিভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে দেশ যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হতো, তাহলে ড. কামাল দীর্ঘদিন নেতৃত্বে থাকতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তাঁর বয়স আগামী বছর ৯০ হবে, অথচ মাত্র তিন-চার বছর তিনি ক্ষমতার মধ্যে ছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী হিসেবে সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দেশকে তুলে ধরেন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দেশের গ্যাস সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর অঙ্গীকার ও সক্ষমতা থাকলেও তিনি যথাযথ সুযোগ পাননি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. কামাল হোসেন, রেহমান সোবহান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩ (গণফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী), ৯০ (ড. কামাল হোসেনের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!