📌 ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে শিশুদের যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পরিচিত ব্যক্তির দ্বারাই শিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হয়
ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ: যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপের উপর আলোচনা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শিশুদের যৌন নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনা পরিচিত ব্যক্তির দ্বারাই ঘটে, অপরিচিত নয়
- 📌 ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের হার প্রতি হাজারে ৯২ জন
- 📌 শিশুদের অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই যৌন শোষণের ঝুঁকি রয়েছে
- 📌 শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে থানাগুলোয় নারী ও শিশু হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে
- 📌 শিশুদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা এবং তাদের অস্বস্তিকর স্পর্শ সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি
📰 বিস্তারিত
গোলটেবিল বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, অনেক অভিভাবক মনে করেন তাদের সন্তান স্বজন বা পরিচিত ব্যক্তির কাছে থাকলে শতভাগ নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে শিশুদের যৌন নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনা পরিচিত ব্যক্তির দ্বারাই ঘটে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের সঙ্গে সময় দেওয়া এবং তাদের কথা মন দিয়ে শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে তা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে ভুক্তভোগী ও অপরাধীর মানসিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে শাস্তিমূলক ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বিদ্যমান আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং শিশুদের অভিযোগকে বিচারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার উপর জোর দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে প্রিভেনশন, প্রটেকশন ও প্রসিকিউশন—এই তিন ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে ঘরের ভেতরেই নির্যাতন ঘটে এবং সামাজিক কুসংস্কারের কারণে অনেক ঘটনা নথিভুক্ত হয় না। ফলে সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে আসামি খালাস পেয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, থানাগুলোয় নারী ও শিশু হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আইনি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
"শুধু সিসিটিভি ক্যামেরার ওপর নির্ভরশীল হয়ে সবক্ষেত্রে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আবাসিক মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সক্ষমতা, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার দিকগুলোও দেখতে হবে।"
হলি ক্রস কলেজের অধ্যক্ষ সিস্টার শিখা গোমেজ বলেন, শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি পরিবার থেকেই এই সচেতনতা শুরু করার উপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, শিশুরা যাতে কোনো নির্যাতনের শিকার হলে চুপ না থাকে এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সুশৃঙ্খলভাবে নিতে পারে, সেজন্য অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, মো. খলিলুর রহমান খান, শামীমা পারভীন, সিস্টার শিখা গোমেজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯২ জন (প্রতি হাজারে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!