📌 চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শান (১৫) পতেঙ্গা সৈকতে স্রোতে ভেসে মৃত্যুবরণ করেন। তার শিক্ষক সুমাইয়া বেগম ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টে শানের শেষ কথাগুলো তুলে ধরেছেন। পরিবারের কাছে অপহরণের ভুয়া তথ্য দিয়ে মুক্তিপণও চাওয়া হয়েছিল
চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শান (১৫) গত শনিবার পতেঙ্গা সৈকতে স্রোতে ভেসে মৃত্যুবরণ করেন। তার শিক্ষক সুমাইয়া বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক আবেগঘন পোস্টে শানের জীবনের শেষ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শান (১৫) পতেঙ্গা সৈকতে স্রোতে ভেসে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 শানের শিক্ষক সুমাইয়া বেগম ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টে তার শেষ কথাগুলো তুলে ধরেছেন
- 📌 শান তার শিক্ষকের কাছে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার নম্বর জানতে চেয়েছিলেন
- 📌 পরিবারের কাছে অপহরণের ভুয়া তথ্য দিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল
- 📌 ঘটনায় চার সহপাঠীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
📰 বিস্তারিত
শান তার শিক্ষক সুমাইয়া বেগমের কাছে জীববিজ্ঞানের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে তিনি তার শিক্ষকের কাছে পরীক্ষার নম্বর জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষক সুমাইয়া বেগম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, 'শান সাধারণত নিজের নম্বর জানতে চাইত না। কিন্তু সেদিন সে বলেছিল, 'ম্যাম, আপনি বলছেন যে এবার আমি বাসায় ভালো করে পড়ছি, পরীক্ষায়ও লিখছি। তাই নম্বরটা জানতে চাইছি। নম্বর জানলে খুশি হতাম!'
শনিবার সকালে স্কুলের কোচিং পরীক্ষায় অংশ নিতে বের হওয়া শান পরীক্ষা শেষে চার বন্ধুর সঙ্গে পতেঙ্গা সৈকতে যায়। সেখানে সাগরে নামার পর স্রোতের টানে শান ভেসে যায় বলে জানিয়েছে তার বন্ধুরা। শান নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে অপহরণের কথা বলে পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
শানের চাচা গোফরান উদ্দিন জানান, শানের মামার বিকাশ নম্বর থেকে টাকা পাঠানো হয়েছে। প্রথমে ষোলশহর স্টেশনে আসতে বলা হয়েছিল। পুলিশ সেখানে গিয়েও কাউকে পায়নি। পরে আরেকটি নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। সেই নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে। পরে জানা গেছে, নম্বরটি লোহাগাড়া এলাকার একজনের নামে।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন জানান, শনিবার শান চার বন্ধুর সঙ্গে পতেঙ্গায় ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে সে পানিতে ভেসে যায়। পরে তারা ভয় পেয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। অপহরণের কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
"সাধারণত পরীক্ষা দেওয়ার পর শান নিজের নম্বর জানতে চাইত না। কিন্তু সেদিন সে বলেছিল, 'ম্যাম, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় আমি কত পেয়েছি?' কথাগুলো তখন খুব স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল শিক্ষকের কাছে। কিন্তু এখন সে কথাই তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সৈকত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শান (১৫), শিক্ষক সুমাইয়া বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ (গ্রেপ্তারকৃত সহপাঠী), ১৫ (শানের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!