📌 শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত একটি শতবর্ষী হোটেলে নদীর টাটকা মাছের স্বাদ পেতে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসেন। ৮৪ বছর বয়সী মালিক আব্দুস সালাম খান ৫৭ বছর ধরে এই হোটেল পরিচালনা করছেন। পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীর মাছের চাহিদা পূরণে হোটেলটি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা সদরের মাছবাজার গলিতে অবস্থিত একটি শতবর্ষী হোটেলে নদীর টাটকা মাছের স্বাদ পেতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে লোকজন ভিড় করে। এই হোটেলে ৮৪ বছর বয়সী আব্দুস সালাম খান ৫৭ বছর ধরে খাবার ব্যবসা চালাচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত ‘সালাম হোটেল’ নামে। পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীর মাছের স্বাদ নিতে লোকজন এখানে আসেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২০-এর দশকে শুরু হওয়া এই হোটেলের বর্তমান মালিক ৮৪ বছর বয়সী আব্দুস সালাম খান, যিনি ৫৭ বছর ধরে হোটেল পরিচালনা করছেন।
- 📌 হোটেলের প্রধান আকর্ষণ হলো পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীর টাটকা মাছ, যা দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতাদের আকর্ষণ করে।
- 📌 প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন ক্রেতা এখানে আসেন এবং দৈনিক বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।
- 📌 হোটেলে ৪২ বছর ধরে রান্নার দায়িত্বে আছে হাসিনা বেগম, যিনি কাঠের লাকড়ি দিয়ে তিনটি চুলায় রান্না করেন।
- 📌 নদীর মাছ না পাওয়া গেলে সেদিন হোটেল বন্ধ থাকে।
- 📌 উপজেলা প্রশাসন পদ্মা নদীর তীরে মাছকেন্দ্রিক পর্যটন চালু করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে এই হোটেলের মতো ঐতিহ্যবাহী খাবার দোকানগুলো যুক্ত হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা সদরের মাছবাজার গলিতে অবস্থিত ‘সালাম হোটেল’ একটি শতবর্ষী ঐতিহ্যের খাবার দোকান। এই হোটেলের আনুষ্ঠানিক নাম নেই, তবে স্থানীয়দের কাছে এটি ‘সালাম হোটেল’ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২০-এর দশকে সুরত আলী খান এই হোটেলের ব্যবসা শুরু করেন। পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীর তীরে অবস্থান করায় তখন থেকেই এই হোটেলের মাছের চাহিদা ছিল।
১৯৬৯ সালে আব্দুস সালাম খান বাবা সুরত আলী খানের কাছ থেকে হোটেল পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯০ সাল থেকে হোটেলটি মাছবাজার গলিতে অবস্থিত। বর্তমানে ৮৪ বছর বয়সী আব্দুস সালাম খান ৫৭ বছর ধরে এই হোটেল পরিচালনা করছেন। প্রতিদিন বেলা একটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত হোটেলে খাবার বিক্রি হয়। সরকারি ছুটির দিনে হোটেল বন্ধ থাকে।
হোটেলের প্রধান আকর্ষণ হলো পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীর টাটকা মাছ। পদ্মার ইলিশ, পাঙাশ, আইড়, বোয়াল ও চিংড়ির পাশাপাশি কীর্তিনাশার বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ রান্না করা হয়। এছাড়াও দেশি মুরগি ও খাসির মাংসও পরিবেশন করা হয়। বাজারে নদীর মাছ না পাওয়া গেলে সেদিন হোটেল বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে এক টুকরা ইলিশের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাঙাশ, আইড় ও বোয়ালের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ছোট মাছের এক প্লেটের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। খাসি ও মুরগির মাংসের এক পিসের দাম ২০০ টাকা।
৪২ বছর ধরে রান্নার দায়িত্বে আছে হাসিনা বেগম। তিনি কিশোরী বয়সে মসলা বাটার কাজ দিয়ে এখানে কাজ শুরু করেছিলেন। এখন তিনি হোটেলটির প্রধান বাবুর্চি। তিনি বলেন, কাঠের লাকড়ি দিয়ে তিনটি চুলায় রান্না করা হয়। সকালে বাজার থেকে মাছ কিনে আনার পর তা কেটে পরিষ্কার করে রান্নার কাজ শুরু হয়। বেলা একটার মধ্যে সব খাবার তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, দিনের মসলা ও রান্নার উপকরণ দিনেই ব্যবহার করা হয়, ফলে খাবারের স্বাদ ও মান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘একেবারে বাড়ির মতো রান্না। সবচেয়ে বড় বিষয়, নদীর টাটকা মাছ দিয়ে দুপুরের খাবার খেতে পারি। খরচ একটু বেশি। তবে নদীর টাটকা মাছ হওয়ায় সেটা নিয়ে সমস্যা হয় না।’
"নদীর মাছ বিক্রি করি বলেই দূরদূরান্ত থেকে অনেক ক্রেতা এখানে আসেন। টাটকা মাছ না পেলে সেদিন হোটেলই বন্ধ থাকে। মানুষের ভালোবাসা আছে বলেই এত বছর ধরে হোটেলটি টিকে আছে।"
আব্দুস সালাম জানান, প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন ক্রেতা হোটেলে খাবার খান। দৈনিক বিক্রি হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। হোটেলে কাজ করেন সাতজন, তাঁদের মধ্যে তিনজন রান্না, চারজন খাবার পরিবেশন ও বিক্রির দায়িত্বে থাকেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নড়িয়া উপজেলা সদর, শরীয়তপুর, মাছবাজার গলি
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুস সালাম খান (৮৪), হাসিনা বেগম (৪২ বছর রান্না), সুরত আলী খান (প্রাক্তন মালিক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০+ বছর (বয়স), ৫৭ বছর (হোটেল পরিচালনা), ৮৪ বছর (আব্দুস সালামের বয়স), ২০-২৫ হাজার টাকা (দৈনিক বিক্রি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!