📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এই বছরের মধ্যে ৪০ লাখ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ করা হবে। এছাড়াও তিনি কৃষি ঋণ সুদমুক্ত, খাল খনন, শিল্প কারখানার পুনরায় চালু এবং নারী শিক্ষা বিনামূল্যে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
রাজশাহী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে আঁখ চাষিদের সমাবেশে বলেছেন, এই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৪০ লাখ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ করা হবে। তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে পাওয়ার সুবিধা থাকবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪০ লাখ কৃষককে এই বছরের মধ্যে ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণের প্রতিশ্রুতি** দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
- 📌 **১ লাখ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ** করা হয়েছে ১৩ লাখ কৃষকের জন্য।
- 📌 **১০টি সুবিধা** থাকবে ‘কৃষি কার্ড’-এ, যার মধ্যে বিনামূল্যে সার-বীজ, ব্যাংক ঋণ, ফসলের বীমা ও আবহাওয়া বার্তা পাওয়ার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত।
- 📌 **২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের** উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮০০ কিলোমিটার ইতিমধ্যে সম্পন্ন।
- 📌 **উত্তরবঙ্গের ১৪ জেলার পানি সংকট দূর** করার জন্য পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
- 📌 **মেয়েদের শিক্ষা অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে** করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’** দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
- 📌 **২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ** স্থাপন করা হয়েছে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে।
- 📌 **৬টি বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু** করা হয়েছে, আগামী ১২ মাসে আরও কারখানা চালু হবে।
- 📌 **ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্কতা** জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের শিল্পাঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীতে আঁখ চাষিদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের কাজ ত্বরান্বিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি সরকার গঠন করলে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের মাত্র ৭ দিনের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করে ১৩ লাখ কৃষকের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদমুক্ত করা হয়েছে।
‘কৃষি কার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের বছরে অন্তত একটি ফসলের প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে বা ভর্তুকিতে পাওয়ার সুবিধা থাকবে। এছাড়াও কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, ফসলের বীমা এবং মোবাইলে আগাম আবহাওয়া বার্তা পাওয়ার সুবিধা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই কার্ডে মোট ১০টি বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী নদী ও খাল সংস্কারের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বরেন্দ্র প্রকল্প ও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ হবে। এর মধ্যে গত আট মাসেই প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে তিনি বলেছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ বেড থেকে ১৫০ বেডের হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। শ্রমিকদের বেকারত্ব দূর করার জন্য বন্ধ মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে এরই মধ্যে ৬টি বন্ধ কারখানা চালু করা হয়েছে এবং আগামী ১২ মাসে আরও কারখানা চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধানমন্ত্রী মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করেছিলেন। এখন বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেয়েদের শিক্ষা অনার্স (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে এবং মেধাবী ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন, প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে এবং এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদের প্রতি মাসে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার ওসমানী উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের দায়িত্ব বিএনপি নিয়েছে। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে, যারা মুখে ২৪-এর কথা বলে, তারা শহিদদের শ্রদ্ধার সেই অনুষ্ঠানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি।
ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেছেন, দেশের অগ্রগতি ও শিল্পাঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টি করতে চক্রান্ত চলছে। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, পলায়নকৃত স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশের ভেতরের কিছু রাজনৈতিক চক্রের সঙ্গে মিলে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি করে স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করছে। তিনি দেশবাসীকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।
"শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বরেন্দ্র প্রকল্প ও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। কৃষক ভাইদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণ করতে আমরা পুনরায় খাল খনন ও নদী সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী (মাদরাসা ময়দান), ঢাকা (ওসমানী উদ্যান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ লাখ কৃষক, ১৩ লাখ কৃষক, ১ লাখ টাকা, ১০টি সুবিধা, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, ৮০০ কিলোমিটার খাল, ৫০ বেড থেকে ১৫০ বেড, ৬টি কারখানা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!