📌 বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সানুহার–ধামুরা–সাতলা সড়কটি ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের প্রধান এই সড়কটির সংস্কার কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় থেমে আছে। এলজিইডির উদ্যোগে শুরু হওয়া সংস্কার কাজে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দেখা দেয় অনিশ্চয়তা
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার প্রধান সড়ক সানুহার–ধামুরা–সাতলা পুরোপুরি ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদর, হাসপাতাল, থানা, ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। ১২ ফুট প্রশস্ত ও ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির প্রায় পুরোটাই এখন খানাখন্দে ভরা। বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও গর্তে জমেছে পানি ও কাদা। ফলে পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশালের উজিরপুরের প্রধান সড়ক সানুহার–ধামুরা–সাতলা পুরোপুরি ভাঙাচোরা
- 📌 ১২ ফুট প্রশস্ত ও ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বেশিরভাগ অংশই খানাখন্দে ভরা
- 📌 স্থানীয়দের অভিযোগ, গত আট বছরে সড়কটির কোনো সংস্কার হয়নি
- 📌 সংস্কারের জন্য ২০২৩–২৪ অর্থবছরে তিনটি প্যাকেজে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল
- 📌 রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেমে যায় সংস্কার কাজ, আট কিলোমিটার অংশের কাজ চলমান থাকলেও বাকি অংশের অবস্থা শোচনীয়
📰 বিস্তারিত
উজিরপুর উপজেলার সানুহার–ধামুরা–সাতলা সড়কটি উপজেলার প্রধান যাতায়াত পথ হলেও বর্তমানে এটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রহিম ব্যাপারী জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে তাঁকে প্রাণ হাতের মুঠোয় রাখতে হয়। গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হচ্ছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আয়ও কমে গেছে। তিনি বলেন, "সড়কটি সংস্কারে বারবার চেষ্টা করে কেবল শুধু আশ্বাস পেয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।"
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, সানুহার–ধামুরা–সাতলা সড়কটি পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে গেছে। ইউনিয়নগুলো হলো সাতলা, হারতা, জল্লা, শোলক ও বামরাইল। এই সড়কে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ চলাচল করেন। উজিরপুরের শোলক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার আবদুল হালিম বলেন, "সড়কটি সংস্কারে বারবার চেষ্টা করে কেবল শুধু আশ্বাস পেয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নিয়ে যেন কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।"
১৬ আগস্ট সরেজমিনে ধামুরা এলাকায় দেখা যায়, ধামুরা থেকে সানুহার হয়ে জল্লা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ উঠে গেছে। কোথাও গর্তে পানি জমেছে। বিভিন্ন স্থানে কাদা ও খানাখন্দ। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন বলেন, "বৃষ্টি হলে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। যাওয়া–আসার পথে কাদাপানিতে ভিজে একাকার হয়ে যেতে হয়।"
"ভাঙাচোরা সড়কটির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত টেকসই সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।" — স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক বদরুজ্জামান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উজিরপুর, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সরদার আবদুল হালিম (ইউপি চেয়ারম্যান), রহিম ব্যাপারী (অটোরিকশা চালক), ইলিয়াস হোসেন (শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ ফুট (প্রস্থ), ২৪ কিলোমিটার (দৈর্ঘ্য), ৩০ হাজার (প্রতিদিন যাত্রী), ৪৫ কোটি টাকা (সংস্কার ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!