📌 ১৬ বছর আগে মাস্টারশেফ ইউকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। অন্তঃসত্ত্বা থাকায় সেবার অংশ নেননি। পরে ছেলের উৎসাহে আবার আবেদন করেন। অনলাইন ইন্টারভিউ, স্টুডিও রান্না সহ বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছান তিনি। পরিবারের সমর্থন ও নিজের প্রচেষ্টায় অর্জিত এই সাফল্য তাঁকে করেছে গর্বিত
একজন মা তাঁর পরিবারের সমর্থনে ১৬ বছরের স্বপ্ন পূরণ করেছেন মাস্টারশেফ ইউকের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে। অন্তঃসত্ত্বা থাকায় প্রথমবার অংশ নিতে না পারলেও পরবর্তীতে নিজের ছেলের উৎসাহে আবার আবেদন করেন তিনি। অনলাইন ইন্টারভিউ, স্টুডিও রান্না সহ বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৮ জনের মধ্যে স্থান করে নেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ বছর আগে প্রথমবার মাস্টারশেফ ইউকে প্রতিযোগিতায় আবেদন করেছিলেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়
- 📌 অনলাইন আবেদনে ১৫-২০টি প্রশ্নের উত্তর ও ৩০ সেকেন্ডের রান্নার ভিডিও জমা দিতে হয়েছিল
- 📌 প্রথম ধাপে ২০ থেকে ৩০ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে থেকে ২ হাজার জনকে ইন্টারভিউয়ের জন্য নির্বাচিত করা হয়
- 📌 শেষ পর্যন্ত ২০০ জনের মধ্য থেকে ৪৮ জনকে নির্বাচিত করা হয় মাস্টারশেফ ইউকের জন্য
- 📌 সেমিফাইনালে অংশগ্রহণকারী হিসেবে তাঁকে ১০০ জনের জন্য রান্না করতে হয়েছিল
- 📌 পরিবারের সমর্থন ছিল তাঁর সাফল্যের প্রধান অনুপ্রেরণা
- 📌 পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি রান্নায়ও স্থায়িত্ববোধের প্রতিফলন ঘটান
📰 বিস্তারিত
প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁর রান্নার যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোটবেলায়। মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রতিবেশী বন্ধুদের সঙ্গে মিলে মাটির চুলায় রান্না করতেন তিনি। চিংড়ি, ভাত, ডাল রান্না করে সবাই মিলে খাওয়ার সেই দিনগুলোর কথা তাঁর মনে পড়ে। তবে একবার গাছের পাতায় খাবার রেখে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের হাসপাতালেও যেতে হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, তাঁর রান্নার অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর মা। ঘরে বসে বিভিন্ন টেলিভিশন শো দেখে রান্নার বিভিন্ন কৌশল শিখেছেন তিনি। তাঁর স্বামী পাকিস্তানের নাগরিক হওয়ায় বাড়িতে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি মিশ্র খাবারের চল রয়েছে। তবে রান্নায় তিনি সব সময় বাংলাদেশি শর্ষের তেল, পাঁচফোড়ন ও মাছের ব্যবহার পছন্দ করেন।
মাস্টারশেফ ইউকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সময় তিনি তৈরি করেছিলেন 'সালাদ অব হারমোনি' নামের একটি বিশেষ সালাদ। ইরানের অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে ফালাফেল, ফ্রান্সের রসুনের কনফি ও বাংলাদেশের ছোলা ও মুড়ি ব্যবহার করে তৈরি করা এই সালাদটির উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বে শান্তির বার্তা দেওয়া। কোয়ার্টার ফাইনালের আগের পর্বে বিচারকেরা তাঁর তৈরি 'বুলেটস অব জয়' নামের পেঁয়াজু খেয়ে খুব খুশি হয়েছিলেন।
"আমার পরিবার সব সময় আমার পাশে ছিল। এখন তো মনে হয় আমার ছেলে-মেয়েই যেন আমার মা, আর আমি ওদের সন্তান! ওরা সব সময় বলে, ‘মা, তুমি ভালোমতো রান্না করো।’"
পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি রান্নায়ও স্থায়িত্ববোধের প্রতিফলন ঘটান। মাছের সালাদ তৈরির পর মাছের কাঁটা ফেলে না দিয়ে স্টক তৈরি করে স্যুপ বা অন্য খাবারে ব্যবহার করেন তিনি। যুক্তরাজ্যে প্রতি মাসে আয়োজিত তাঁর 'সাপার ক্লাব'-এ ১২ থেকে ২৫ জন অতিথির জন্য ৬-৭ পদের খাবার পরিবেশন করা হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: একজন বাংলাদেশি রাঁধুনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ বছর, ১৫-২০টি প্রশ্ন, ৩০ সেকেন্ড, ২ হাজার জন, ৪৮ জন, ১০০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!