📌 জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নরওয়ের কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। আলোচনা হয় সাংসদীয় সহযোগিতা, মানবাধিকার ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নরওয়ের কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রোববার ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তেল-গ্যাস খনন: বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নরওয়ের কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
- 📌 সাংসদীয় সহযোগিতা: দুই দেশের মধ্যে সাংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সাংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়।
- 📌 গণতান্ত্রিক বিকাশ: স্পিকার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ-নরওয়ে সম্পর্কের বিকাশের কথা উল্লেখ করে ১৭ বছরের শাসনামলে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা তুলে ধরেন।
- 📌 রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: বাংলাদেশের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নরওয়ের সহযোগিতা চাইতে স্পিকার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন।
- 📌 বিশ্বশান্তি: নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বশান্তিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে এবং নরওয়ে বাংলাদেশের সাংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
📰 বিস্তারিত
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেন, বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে ক্রমাগত বিস্তৃত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে অন্যতম এবং বাংলাদেশের সাংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে দেশটি সবসময় সহযোগিতা করে আসছে।
১৭ বছরের শাসনামলের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের কারণে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচন সাংসদীয় গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। গুম, খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তৎকালীন বিরোধী দলের নেতাদের বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়। স্পিকার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে।
মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন। নরওয়েসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ এ ক্ষেত্রে কার্যকর সহযোগিতা করতে পারে।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, নরওয়ে বাংলাদেশের সাংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সহযোগিতা দিতে সবসময় প্রস্তুত।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সাংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সাংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
"বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে অন্যতম। বাংলাদেশের সাংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশেও দেশটি সবসময় সহযোগিতা করে আসছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় সংসদ ভবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!