📌 বঙ্গভবন নামে পরিচিত রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের শতাব্দী পেরোনো ইতিহাস রয়েছে। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ এ ভবনে উঠছেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হিসেবে পরিচিত বঙ্গভবনের ইতিহাস শতাব্দী পেরিয়ে গেছে। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণ করলেও আজ রোববার তিনি এই শতাব্দী প্রাচীন ভবনে উঠছেন। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই ভবনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৫ সালে নির্মিত হয়েছিল বঙ্গভবন
- 📌 পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ প্রতিষ্ঠার পর লেফট্যানেন্ট গভর্নরের জন্য নির্মিত হয়েছিল ভবনটি
- 📌 ১৯১১ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় এবং নাম দেওয়া হয় ‘গভর্নমেন্ট হাউজ’
- 📌 ১৯৬৪ সালে ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে পুনর্নির্মিত হয় ভবনটি
- 📌 ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুনর্নির্মাণ করা হয়
📰 বিস্তারিত
বঙ্গভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ শাসনামলে। ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ প্রতিষ্ঠার পর লেফট্যানেন্ট গভর্নরের জন্য একটি সরকারি বাসভবনের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রয়োজন থেকেই ঢাকার দিলখুশা এলাকায় ভবনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের লেফট্যানেন্ট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার। তাঁর জন্যই এই ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুনের ‘ঢাকা-স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ‘ঢাকা কোষ’ গ্রন্থে বঙ্গভবনের নির্মাণ ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব গ্রন্থ অনুযায়ী, ভবনটি নির্মাণের জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার নবাব পরিবারের কাছ থেকে দিলখুশায় অবস্থিত পারিবারিক বাগানের দক্ষিণ অংশ ইজারা নেয়। এই অংশটিই ছিল ‘দানা দিঘীর ময়দান’ নামে পরিচিত। ব্যামফিল্ড ফুলার নিজেই ভবনের স্থান নির্বাচন করেন।
১৯১১ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ভবনটির নাম দেওয়া হয় ‘গভর্নমেন্ট হাউজ’। সেগুন কাঠের তৈরি এই ভবনের মেঝের আয়তন ছিল ২৫ হাজার ১২৮ বর্গফুট। কাঠের মেঝে ছিল মাটি থেকে চার ফুট উঁচু। এজন্য একে ‘টিম্বার প্যালেস’ বা কাঠের রাজপ্রাসাদ বলা হতো।
১৯৬১ সালে এক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নামকরা স্থপতি মঈনুদ্দিন চিশতীকে লাহোর থেকে নিয়ে আসা হয় ভবনের নকশা তৈরির জন্য। তৎকালীন গভর্নর আজম খানের ইচ্ছানুযায়ী ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে ভবনের নকশা করা হয়। ১৯৬৪ সালের ১৭ জানুয়ারি নির্মাণ কাজ শেষ হয়। নতুন ভবনের আয়তন ছিল ৮৪ হাজার বর্গফুট।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ভবনটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এই ভবনেই। পরবর্তীতে ভবনটিকে রাষ্ট্রপতির আবাস ও দপ্তর হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং নাম দেওয়া হয় বঙ্গভবন।
"বঙ্গভবনের ইতিহাস শুধু একটি ভবনের নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিবর্তনেরও প্রতিচ্ছবি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিলখুশা, ঢাকা
- 👥 ব্যক্তি: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার, মুনতাসির মামুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ হাজার ১২৮, ৮৪ হাজার, ১৭ জানুয়ারি ১৯৬৪, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!