📌 বান্দরবানের উন্নয়নে শিক্ষা ও পানি সংকটের সমাধান হিসেবে আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিবেশগত উন্নয়নের দাবি উঠেছে নাগরিক সমাজের গোলটেবিল সংলাপে। পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও জলবায়ু সংকটের সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে
বান্দরবানের উন্নয়নে শিক্ষা ও পানি সংকটের সমাধান হিসেবে আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিবেশগত উন্নয়নের দাবি উঠেছে গতকাল অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল সংলাপে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় একশনএইডের সুশীল প্রকল্প ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় স্থানীয় নেতা, রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। বান্দরবান জেলা শহরের হোটেল ডিমোরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংলাপে পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার অগ্রাধিকার ও পানি সংকটের সমাধানকে প্রধান বিষয় হিসেবে আলোচনা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থা**: পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কয়েকটি আবাসিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার দাবি উঠেছে। এতে শিক্ষক নিয়োগ ও বিদ্যালয় নির্মাণের ব্যয় কমবে এবং মাতৃভাষায় শিক্ষা সহজ হবে।
- 📌 **পানি সংকট**: বান্দরবানের জলবায়ু সংকটের কারণে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ না থাকায় পরিবেশগত অবনতি ঘটছে।
- 📌 **মাতৃভাষা শিক্ষা**: ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার জন্য আবাসিক বিদ্যালয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
- 📌 **কৃষি ও পরিবেশ**: জুমচাষ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবি উঠেছে।
- 📌 **শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা**: শিক্ষকদের আবাসন ও যাতায়াতের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির সমস্যা দূর করার আহ্বান করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেটে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা অন্তর্ভুক্তিকরণ: বান্দরবানের পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও উন্নয়নের জন্য আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রাধিকারের বিষয়টি প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে। সংলাপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ বলেছেন, সমতলের সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলের বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু বাজেট প্রণয়নে এই পার্থক্য বিবেচনা করা হয় না। যেমন, সমতলের হাসপাতালে দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স পাহাড়ি সড়কে চলাচল করতে পারে না।
সংসদ সদস্য মাধবী মারমা বলেছেন, জাতীয়ভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট তৈরিতে ঘাটতি রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এই ঘাটতিগুলো দূর করার উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও প্রান্তিক মানুষের চাহিদা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। হেডম্যান-কার্বারি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি উনিহ্লা মারমা বলেছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রতিটি পাড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি ইউনিয়নে কয়েকটি আবাসিক বিদ্যালয় গড়ে তোলা দরকার। এতে সরকারের ব্যয় কমবে এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অং চ মং মারমা বলেছেন, আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের আবাসন ও যাতায়াতের জন্য প্রণোদনা দেওয়া দরকার। এতে কর্মস্থলে শিক্ষক অনুপস্থিতির সমস্যা দূর হবে।
পরিবেশ ও পানির সংকট নিয়ে আলোচনা করে বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য অংজাই উই চাক ও রাজুময় তঞ্চঙ্গ্যা বলেছেন, জলবায়ু সংকটের কারণে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ না থাকায় পরিবেশগত অবনতি ঘটছে। তারা বলেন, পাহাড়ের উন্নয়ন পাহাড়ি মানুষের জ্ঞানেই করা উচিত। বনাঞ্চল ধ্বংস ও পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ার কারণে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন বলেছেন, পানি সংকটের সমাধান বান্দরবানের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কৃষির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বাজেটে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
"আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে, ঝরে পড়ার হার কমবে। শিক্ষার হার ও গুণগত মান বাড়লে উন্নয়ন টেকসই হবে।"
— অং চ মং মারমা, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বান্দরবান জেলা শহর, হোটেল ডিমোরের মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাধবী মারমা, উনিহ্লা মারমা, অং চ মং মারমা, অংজাই উই চাক, রাজুময় তঞ্চঙ্গ্যা, জসীম উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (সংলাপের সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!