📌 ময়মনসিংহের কান্দানিয়া গ্রামের আমিনুল হক বাবা-মা হারিয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাতে ইট ভাঙেন, টিউশনি করেন। ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে চাকরিতে যোগদান করবেন ১২ অক্টোবর। দাদি ও বাবা তাঁর সাফল্য দেখতে পারেননি
ময়মনসিংহের কান্দানিয়া গ্রামের আমিনুল হক বাবা-মা হারিয়ে পড়াশোনার প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিসিএস ক্যাডারে পৌঁছেছেন। ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে ১২ অক্টোবর চাকরিতে যোগদান করবেন তিনি। তবে তাঁর দাদি ও বাবা তাঁর সাফল্য দেখতে পারেননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ময়মনসিংহের কান্দানিয়া গ্রামের** আমিনুল হক বাবা-মা হারিয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাতে ইট ভাঙেন, টিউশনি করেন ও কৃষিকাজ করেন
- 📌 **৪৬তম ও ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ** পেয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর গেজেটে চাকরি চূড়ান্ত হয়, ১২ অক্টোবর যোগদান করবেন
- 📌 **বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাঁকো-প্রথম আলো ট্রাস্টের বৃত্তি’** পেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিসিএস প্রস্তুতি নেন
- 📌 **দাদি ও বাবা তাঁর সাফল্য দেখতে পারেননি** — দাদি মারা গেছেন ২০২১ সালে, বাবা ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 **গ্রামবাসীর সহায়তায়** পড়াশোনা চালিয়ে যান, খাতা-কলম থেকে পরীক্ষার ফি পর্যন্ত সহযোগিতা পান
📰 বিস্তারিত
আমিনুল হকের জীবনের শুরু ছিল কষ্টময়। সাত মাস বয়সে মা হারান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাও চলে যান। বাবা ওয়াজউদ্দিন মিয়া কৃষিকাজ করতেন, কিন্তু পরিবারের খরচ চালাতে পারতেন না। চাচা-চাচি আবদুল খালেক ও মিনারা খাতুন তাঁকে নিজের সন্তানের মতো বড় করেন। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় ইট ভাঙার কাজ করতেন আমিনুল। নবম শ্রেণি থেকে টিউশনি শুরু করেন, পাশাপাশি পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে কৃষিকাজও করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ‘সাঁকো-প্রথম আলো ট্রাস্টের বৃত্তি’ পেয়ে আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পান। ২০২১ সালের মার্চ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নেন। কোনো কোচিংয়ে দীর্ঘদিন পড়েননি, বরং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রস্তুতি নেন। পাঁচটি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ৪৬তম ও ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর গেজেটে চাকরি চূড়ান্ত হয়। ১২ অক্টোবর চাকরিতে যোগদান করবেন তিনি।
আমিনুলের সাফল্য দেখতে পারেননি তাঁর দাদি ও বাবা। দাদি মোছা. ওমর জান ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন, বাবা ২০১২ সালে। দাদি তাঁকে বলতেন, ‘তুমি একদিন বড় অফিসার হবা’। কিন্তু দাদি আর দেখতে পারেননি তাঁর সাফল্য। বাবাও দেখতে পারেননি। আমিনুল বলেন, ‘এটা সারা জীবনের আফসোস’।
"তোমার তিনটা ছেলে আর এইটা আরও একটা। চারজনরে এক চোখে দেখবা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা, কান্দানিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আমিনুল হক, আবদুল খালেক, মিনারা খাতুন, মাসুদ করিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬তম ও ৪৯তম বিসিএস, ৩০ সেপ্টেম্বর, ১২ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!