📌 বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে ঘোষণা করেছে বেবিচক। সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারে আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দেশের বিমানবন্দরগুলোর সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি ও অননুমোদিত প্রবেশের মতো সাইবার হুমকি মোকাবিলায় বিমানবন্দরগুলোকে ইতিমধ্যে ‘ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (সিআইআই) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিমানবন্দরগুলোকে সিআইআই হিসেবে ঘোষণা করেছে বেবিচক
- 📌 সাইবার হুমকি হিসেবে ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি ও তথ্য চুরির বিষয়গুলো চিহ্নিত
- 📌 জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা (এনসিএসএ) থেকে নিয়মিত নির্দেশনা গ্রহণ
- 📌 বিমানবন্দরের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ
- 📌 আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দেশের বিমানবন্দরগুলোর সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং যাত্রী ও ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য চুরির মতো সাইবার হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেবিচক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘সিভিল অ্যাভিয়েশন থ্রেট অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট কমিটি’র (সিএট্র্যাক) দ্বিতীয় সভায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএট্র্যাকের সভাপতি ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সভায় অংশগ্রহণ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং পুলিশের বিশেষ শাখার প্রতিনিধিরা।
সভায় বিমানবন্দরের সাইবার নিরাপত্তার বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ফিশিংয়ের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, পাসওয়ার্ড চুরি, অননুমোদিতভাবে সিস্টেমে প্রবেশ এবং যাত্রী ও ফ্লাইট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির মতো হুমকি মোকাবিলায় বেবিচকের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
বেবিচক সূত্রে জানানো হয়, দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সাইবার নিরাপত্তাকে আরও গুরুত্ব দিতে ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগ্রাম (এনসিএপি) এবং অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি ট্রেইনিং প্রোগ্রামে (এটিএসপি) সাইবার নিরাপত্তার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘সিভিল অ্যাভিয়েশন সাইবার সিকিউরিটি ডিরেক্টিভস’ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, বিমানবন্দরগুলোকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিআইআই) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ও সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
"বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাত সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হামলা, অভ্যন্তরীণ হুমকি, বিস্ফোরক ডিভাইস ও ড্রোন হামলাসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি। এসব হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার আইসিএও অ্যানেক্স ১৭ অনুযায়ী নিয়মিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে সিএটিআরএসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।"
সভায় আসন্ন আইসিএও ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম (ইউস্যাপ)–কন্টিনিউআস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (সিএমএ) অডিটের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
সভায় বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা পরিবেশে কার্যকর ঝুঁকি মূল্যায়ন, যথাযথ তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ আইসিএওর আসন্ন নিরাপত্তা অডিট সফলভাবে মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!