📌 পার্বত্য চট্টগ্রামে অর্থকরী ফসল ও উচ্চফলনশীল প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে সরকারের জোরালো উদ্যোগ। ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার, মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে গুরুত্বারোপ
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সভায় অর্থকরী ফসল ও উচ্চফলনশীল প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী সাচিং প্রু জানান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও নেপালের মতো দেশগুলো জুম চাষাবাদের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করেছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশেও এমন বিপ্লব ঘটাতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পার্বত্য অঞ্চলে অর্থকরী ফসল হিসেবে কাজু বাদাম ও কফি চাষে উচ্চফলনশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ
- 📌 মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে ভূমির গুণগত মান নির্ণয় ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে গুরুত্বারোপ
- 📌 ভেড়া ও মেষ পালনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পরামর্শ
- 📌 তামাক চাষ পরিহার করে ইক্ষু, তুলা, কাজু বাদাম ও কফি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার নির্দেশ
- 📌 পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের তাগিদ
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এডিপি সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এসব নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, পাহাড়ি মাটি বিশেষ কিছু প্লান্টেশনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও নেপালের মতো দেশগুলো জুম চাষাবাদের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের বিপ্লব ঘটাতে হবে।
মন্ত্রী ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অর্থকরী ফসল উৎপাদনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে ভূমির গুণগত মান নির্ণয় এবং পরিবেশবান্ধব অর্থকরী ফসল, উন্নতমানের মাশরুম ও ভালো জাতের লটকন চাষের উদ্যোগ নিতে বলেন। পাশাপাশি গাড়ল বা ভেড়া ও মেষ পালনের প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। অধিগ্রহণকালে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি খাসজমিতে পুনর্বাসন করতে হবে। তিনি জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রথাগত বিধি অনুযায়ী সমাধান করার তাগিদ দেন।
তামাক চাষ সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা পরিহার করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর পরিবর্তে কৃষকদের ইক্ষু, তুলা, কাজু বাদাম ও কফি চাষে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। এছাড়া দুর্গম এলাকায় পানির সঙ্কট দূর করা, অর্গানিক ফল উৎপাদনে বাগান বৃদ্ধি, রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারণ এবং কোল্ড স্টোরেজ ও ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।
"পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনতে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব অর্থকরী ফসল উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার বেইলি রোড, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাচিং প্রু (মন্ত্রী), ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি (প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৬ সালের জুলাই মাসের এডিপি সভা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!