📌 কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর শহীদ আবরার ফাহাদের নামে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ সেতুর নামকরণের দাবি পূরণে আনন্দিত হন। নদী পারাপারের কষ্ট কাটাতে সেতু নির্মাণের দাবি ছিল এলাকাবাসীদের প্রধান চাহিদা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর শহীদ আবরার ফাহাদের নামে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ সেতুর নামকরণের দাবি পূরণে আনন্দিত হন এবং বলেন, ‘খুশি তো অবশ্যই’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমারখালীর গড়াই নদীর ওপর নির্মিত হবে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ — প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগকে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
- 📌 আবরার ফাহাদ ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতে।
- 📌 সেতু নির্মাণের দাবি ছিল এলাকাবাসীদের প্রধান চাহিদা — প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ নদী পারাপার করে কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করেন।
- 📌 বরকত উল্লাহের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেতু নির্মাণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি থেকে লালন শাহের আখড়া পর্যন্ত যোগাযোগ সহজ হবে।
- 📌 ২০২৫ সালের ৬ মার্চ প্রথম আবেদন করা হয় সেতু নির্মাণের জন্য, কিন্তু এখন সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে যাচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শহীদ আবরার ফাহাদ ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নেতা-কর্মীরা। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এলাকাবাসীরা সেতু নির্মাণের দাবি তুলে ধরছিলেন।
সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট–বড় বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বরকত উল্লাহ সেতুর নাম ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ করার দাবি পূরণে আনন্দিত হন। তিনি বলেন, ‘সেতুর নামকরণ করায় আমি খুশি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় সেতুটির নাম শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম।’ তিনি আরও জানান, এলাকার মানুষের নদী পারাপারের দুর্ভোগ তুলে ধরেছেন। কয়া, শিলাইদহ, চাপড়া, নন্দলালপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ নৌকায় নদী পেরিয়ে কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করেন। শিশু, নারী, বয়স্ক ও রোগীদের জন্য এই পারাপার কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ।
সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিবেশবিষয়ক জরিপের জন্য একটি দল এবং পরে বুয়েটের প্রকৌশলীসহ আরেকটি দল এলাকাটি পরিদর্শন করে। এসব কার্যক্রমে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সেতু নির্মাণের আশা তৈরি হয়েছে।
"সেতুর নাম ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ করা এলাকার জনগণের প্রধান দাবি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় সেতুটির নাম শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমারখালী উপজেলা, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বরকত উল্লাহ, শহীদ আবরার ফাহাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ অক্টোবর ২০১৯ (হত্যাকাণ্ডের তারিখ), ৩৫-৪০ হাজার (প্রতিদিন নদী পারাপারকারী), ৮০০ মিটার (সেতুর প্রস্তাবিত দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!