📌 বিজিবির উদ্যোগে আরাকান আর্মির হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২৪ জেলে। দীর্ঘ আট মাসের বন্দিদশায় নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন তারা। টেকনাফ জেটিঘাটে স্বজনদের কোল ছুঁয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে উঠেছেন জেলেরা
বিজিবির দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আরাকান আর্মির কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২৪ জন জেলে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে নাফ নদীর শূন্যরেখায় তাদের হস্তান্তর করা হয়। পরে বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয় জেলেদের। দীর্ঘ আট মাসের বন্দিদশা শেষে দেশে ফেরা জেলেরা আরাকান আর্মির নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিজিবির উদ্যোগে আরাকান আর্মির কাছ থেকে মুক্তি পান ২৪ জেলে
- 📌 নাফ নদীর শূন্যরেখায় তাদের হস্তান্তর করা হয় বুধবার সকালে
- 📌 টেকনাফ জেটিঘাটে স্বজনদের কোল ছুঁয়ে আবেগাপ্লুত জেলেরা
- 📌 আরাকান আর্মির হাতে আটক ছিলেন দীর্ঘ ৮ থেকে ১৩ মাস
- 📌 বিজিবির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪৩৪ জনকে আটক করেছে আরাকান আর্মি
📰 বিস্তারিত
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ডাঙরপাড়ার জেলে ওমর ফারুক জানান, তিনি বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করছিলেন। জাল টানার সময় হঠাৎ মিয়ানমার থেকে দুটি স্পিডবোটে আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে তাদের ঘিরে ফেলে। পরে ট্রলারে উঠিয়ে সবার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। প্রায় এক ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে মিয়ানমারের উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নামিয়ে ভিডিও করা হয়। এরপর মিয়ানমারের ভেতরে নিয়ে পেছনে হাত বেঁধে মারধর করা হয়। অন্য একটি স্থানে নিয়ে লোহার রড দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। এভাবে টানা আট মাস লোহার রড দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিলেন তারা।
সেন্টমার্টিনের জেলে আব্দুল্লাহ জানান, তিনি বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ শিকার করছিলেন। জোয়ারের কারণে ট্রলারটি জলসীমার কাছাকাছি চলে যায়। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে ট্রলারে উঠে সবাইকে রশি দিয়ে বেঁধে মিয়ানমারে নিয়ে যায়। পরে তাকে মংডু কারাগারে আটক রাখা হয়। কারাগার থেকে প্রতিদিন বের করে ক্ষেত-খামার ও রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ করানো হতো। পাশাপাশি আরাকান আর্মির যুদ্ধের জন্য ঘাঁটি ও বাংকার নির্মাণেও বাধ্য করা হতো। কাজের সময় তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হতো। অনাহারে-অর্ধাহারে রেখেই এসব কাজ করানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
টেকনাফ জেটিঘাটে স্বজনদের ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জেলেরা। দীর্ঘ নয় মাস পর ভাইকে ফিরে পেয়ে ইয়াছিন আক্তার জানান, 'আমার ভাই ৯ মাস মিয়ানমারে আটক ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বুধবার টেকনাফে ফিরে এসেছে। ভাইকে ফিরে পেয়ে খুবই আনন্দ লাগছে।'
রশিদা বেগম নামে এক নারী জানান, 'সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার সময় আরাকান আর্মি আমার দুই ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ১৩ মাস পর তারা দেশে ফিরে এসেছে। ছেলেদের ফিরে পেয়ে এখন খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, আমার ছেলেরা যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে।'
টেকনাফস্থ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বিজিবির একটি প্রতিনিধি দল নাফ নদীর শূন্যরেখায় অপর পক্ষের কাছ থেকে মোট ২৪ জেলেকে গ্রহণ করে। দেশে ফিরিয়ে আনার পর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আটক জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনায় তাদের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।
"মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয়ের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট আটক জেলেদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টেকনাফ, কক্সবাজার
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ওমর ফারুক, আব্দুল্লাহ, ইয়াছিন আক্তার, রশিদা বেগম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ জন জেলে, ৮ থেকে ১৩ মাস বন্দিত্ব, ৪৩৪ জন আটক, ৩৪৮ জন ফেরত, ৮৬ জন এখনও আটক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!