📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ থেকে ১৩ বছরে ৭১,৪৯৫ কোটি টাকার এলএনজি: ৭৮ কার্গো জিটুজি চুক্তি

👥 উল্লেখিত ব্যক্তিত্ব: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ থেকে ১৩ বছরে ৭১,৪৯৫ কোটি টাকার এলএনজি: ৭৮ কার্গো জিটুজি চুক্তি

📷 ছবি: দেশজোগ

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 প্রথম আলো প্রতিবেদক ফখরুল ইসলাম। গানভর ইউএসএ এলএলসি (বেসরকারি) থেকে ২০২৬-২০৩৯ পর্যন্ত ৭৮ কার্গো এলএনজি (বছরে ৬), মোট ৭১,৪৯৫ কোটি টাকা। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন—সভাপতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পেট্রোবাংলা বাস্তবায়ণকারী। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু: সেপ্টেম্বর থেকে জাহাজ, পারফরম্যান্স দেখে ১৩ বছর চূড়ান্ত। সাবেক সিইও বিপিপিএ ফারুক হোসেন: বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে জিটুজি আইনসম্মত কি না তা স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে সরকার ১৩ বছরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে—সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে (জিটুজি) মোট ৭৮ কার্গো। বর্তমান বাজারে এই এলএনজির দাম ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে আমদানি করা হবে ৬ কার্গো। চলতি ২০২৬ সাল থেকে শুরু করে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত গানভর থেকে এলএনজি আমদানি হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। তবে সাবেক সিইও বিপিপিএ ফারুক হোসেন প্রশ্ন তুলেছেন—বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে জিটুজি আইনসম্মত কি না তা স্পষ্ট নয়।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • সরবরাহকারী: গানভর ইউএসএ এলএলসি (Gunvor USA LLC)—যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
  • পরিমাণ: ১৩ বছরে মোট ৭৮ কার্গো এলএনজি (বছরে ৬ কার্গো)।
  • মেয়াদ: ২০২৬ থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত।
  • মূল্য: বর্তমান বাজারে মোট ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ধরে)।
  • এক কার্গো: ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ—প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমান।
  • বাজার মূল্য: প্রতি এমএমবিটিইউ $২১.৫-২২; এক কার্গোর দাম $৭.৩৯২ মিলিয়ন = ৯১৬.৬১ লাখ টাকা।
  • অনুমোদন: মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে—সভাপতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
  • বাস্তবায়নকারী: পেট্রোবাংলা (জ্বালানি ও খনিমসম্পদ বিভাগের আওতাধীন)।
  • বিদ্যমান চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, ওমান ও সৌদি আরবের ৫ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৭টি চুক্তি রয়েছে পেট্রোবাংলার।
  • জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু: সেপ্টেম্বর থেকে গানভরের জাহাজ আসবে; পারফরম্যান্স দেখে ১৩ বছরের চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে।
  • আইনি প্রশ্ন: সাবেক সিইও বিপিপিএ ফারুক হোসেন—বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে জিটুজি আইনসম্মত কি না তা স্পষ্ট নয়; পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী সরকার বা মনোনীত প্রতিষ্ঠান হতে হবে।

জিটুজি চুক্তি: গানভর থেকে ৭৮ কার্গো

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে সরকার ১৩ বছর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে। সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে (জিটুজি) মোট ৭৮ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। বর্তমান বাজারে এই এলএনজির দাম ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে আমদানি করা হবে ৬ কার্গো এলএনজি। চলতি ২০২৬ সাল থেকে শুরু করে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে এলএনজি আমদানি করা হবে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ক প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী কোনো ব্রিফ করেননি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদনের তথ্য সাংবাদিকদের জানায়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন সংস্থা পেট্রোবাংলা এ কেনাকাটার বাস্তবায়নকারী সংস্থা।

বিদ্যমান চুক্তি: ৫ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৭ চুক্তি

নীতিগত অনুমোদনের জন্য বৈঠকে জ্বালানি ও খনিমসম্পদ বিভাগ যে প্রস্তাব উপস্থাপন করে, তাতে বলা হয়—বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, ওমান ও সৌদি আরবের ৫ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৭টি চুক্তি রয়েছে পেট্রোবাংলার। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি এসব চুক্তির ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। দেশে বিদ্যমান ও ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে দরকার নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়। আর এ জন্য দরকার আরও এলএনজি আমদানি। আর সে কারণেই গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে জিটুজি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানি করা হবে।

জিটুজি প্রশ্ন: বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে আইনসম্মত?

জিটুজি হয় সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে। কোনো বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে সরকারের জিটুজি করার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি। গানভর ইউএসএ এলএলসি-ও বেসরকারি কোম্পানি। তাই প্রশ্ন উঠেছে—গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ আইনসম্মত হচ্ছে কি না।

এই প্রশ্নটি তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ জিটুজি চুক্তি সাধারণত দুই সরকারের মধ্যে হয়, এবং এতে কোনো প্রতিযোগিতামূলক বিডিং প্রক্রিয়া থাকে না। বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে জিটুজি করা হলে পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন) লঙ্ঘন হতে পারে—যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিকে দুর্বল করে।

জ্বালানিমন্ত্রী টুকু: 'প্রথমে ১৩ বছর দেওয়া না-ও হতে পারে'

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিমসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রথম আলোকে বলেছেন, 'গানভরকে প্রথমে ১৩ বছর দেওয়া না-ও হতে পারে। দুই মাস পর সেপ্টেম্বর থেকে গানভরের এলএনজির জাহাজ আসবে। আমরা আগে তাদের পারফরম্যান্স দেখব। এরপর ঠিক করব ১৩ বছরের জন্য এটা করা যেতে পারে কি না।'

জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেছেন, 'অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, তার ভিত্তিতেই এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে এবং গণখাতে ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুসরণ করেই করা হচ্ছে। পিপিআর ব্যাহত হলে এটা আমরা করতে যেতাম না।' তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে ১৩ বছরের চুক্তি চূড়ান্ত নয়—প্রথম দিকে গানভরের পারফরম্যান্স দেখে তবেই দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।

ফারুক হোসেন (সাবেক সিইও বিপিপিএ): 'জিটুজির ধরনটা গ্রহণযোগ্য হবে না'

পিপিআর অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, বৈঠকে উপস্থিত থেকে তা যাচাই করে থাকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)। জানতে চাইলে বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু সাইদ মো. কামরুজ্জামান আজ মঙ্গলবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেছেন—তিনি আজই এ পদে যোগ দিয়েছেন, তাই কিছু বলতে পারছেন না।

তবে বিপিপিএর সাবেক সিইও (তখনকার মহাপরিচালক) ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি কোম্পানি গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের জিটুজি কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি গানভরকে ঠিক করে দিয়ে থাকে বা মনোনয়ন দেয়, তাহলে সেটা একটা ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে তা হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। যদি না হয়ে থাকে, তাহলে জিটুজির ধরনটা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।'

ফারুক হোসেন আরও বলেছেন—সরকার, সরকারের অধীন বা মনোনীত প্রতিষ্ঠান হতে হবে, যা পিপিআর ২০২৫-এ বলা হয়েছে। তাহলেই জিটুজি করা যাবে। এটি নিশ্চিত হয়েছে কি না, বোঝা যাচ্ছে না। এই মন্তব্য সরকারের এই চুক্তির বৈধতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—বিশেষত যখন বিপিপিএর বর্তমান সিইও নতুন যোগ দিয়েছেন এবং তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।

এলএনজির গণিত: এক কার্গোর দাম

এক কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ (মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) সমপরিমাণ এলএনজি থাকে। এটি প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের সমান। বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ২১.৫ থেকে ২২ মার্কিন ডলার। প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ ডলার হিসাবে এক কার্গোর দাম পড়ে ৭ কোটি ৩৯২ লাখ ডলার—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। বছর ঘুরলেই এলএনজির দাম বাড়ে। বর্তমান দর বিবেচনায় নিলেও ৭৮ কার্গোর দাম দাঁড়ায় ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ধরে)।

এই হিসাবটি দেখায় যে এলএনজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মতোই পরিবর্তনশীল—এবং ১৩ বছরের চুক্তিতে দাম বাড়লে মোট খরচ ৭১ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। এই ঝুঁকি কমাতে সরকার সম্ভবত প্রথম দিকে গানভরের পারফরম্যান্স দেখে তবেই দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দেবে—যেমনটি জ্বালানিমন্ত্রী টুকু ইঙ্গিত দিয়েছেন।

'যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি কোম্পানি গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের জিটুজি কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি গানভরকে ঠিক করে দিয়ে থাকে বা মনোনয়ন দেয়, তাহলে সেটা একটা ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে তা হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। যদি না হয়ে থাকে, তাহলে জিটুজির ধরনটা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।'—ফারুক হোসেন, সাবেক সিইও, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)
যাচাই অবস্থা: ✓ যাচাইকৃত (নির্ভরতা স্কোর: 80%)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖