📌 কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকার নিকলী উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের জাইতুনের মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে তোলেন চিকিৎসকরা। গর্ভাবস্থায় হার্টের জটিলতা ও অক্সিজেনের অভাবে মা-শিশু উভয়কেই বাঁচানোর চেষ্টায় ২৪ ঘণ্টার অপারেশন পরিচালনা করা হয়
কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায় মৃত্যুর মুখ থেকে জীবন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন চিকিৎসকদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা। নিকলী উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের জাইতুনের মৃত্যুর কোল থেকে বাঁচিয়ে তোলার গল্পটি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার এক কঠিন চিত্রের পাশাপাশি মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাইতুন ও তার ১.৮ কেজি ওজনের প্রিম্যাচিউর শিশুকে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে তোলেন চিকিৎসকরা।
- 📌 ২৪ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জাইতুনের অবস্থা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
- 📌 ২৭ অক্টোবর গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জাহিরুন নেছা রেনু ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান ডা. সোহেলের নেতৃত্বে সিজারিয়ান অপারেশন পরিচালিত হয়।
- 📌 পারিপারটম ডাইল্যাটেড কারডিওমায়োপ্যাথি নামক হার্টের জটিলতা ছিল জাইতুনের মূল সমস্যা।
- 📌 ২৪ ঘণ্টা ধরে চিকিৎসক ও ইন্টার্নরা রোগীর পাশে থাকেন, বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশন ও আইসিইউ কেয়ার প্রদান করে।
📰 বিস্তারিত
হাওর এলাকার দরিদ্র পরিবারের বধূ জাইতুনের জীবন একদিন মৃত্যুর মুখে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের প্রায় দেড় মাস বাকি থাকা অবস্থায় তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টের শিকার হন। গ্রামীণ এলাকার প্রথাগত ধারণার কারণে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে না যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
২৪ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জাইতুনের অবস্থা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফুসফুস জলপূর্ণ হয়ে যায় এবং অক্সিজেন মাস্কের সর্বোচ্চ ব্যবহারেও স্যাচুরেশন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের প্রাণান্ত চেষ্টায় মেডিসিন, আইসিইউ এবং অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশালিস্ট ডা. অনুপম কুমার দাসের নেতৃত্বে চিকিৎসকরা জাইতুনের অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু করেন। বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশন শুরু হয় এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়ান। গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জাহিরুন নেছা রেনু, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহানাজ বেগম, সহকারী অধ্যাপক ডা. আয়েশা সিদ্দিকা ও ডা. শাহানা জামান পলির তত্ত্বাবধানে ২৭ অক্টোবর সিজারিয়ান অপারেশন পরিচালিত হয়।
"রোগীর অবস্থা যখন কন্ট্রোলের বাহিরে চলে যাচ্ছিল, তখন আমাদের গাইনি ডিপার্টমেন্টের সম্মানিত ম্যাডামগণ—বিশেষ করে আয়েশা ম্যাম ও বিনীতা ম্যাম-এর সময়োপযোগী উৎসাহ ও দূরদর্শিতা আমাদের দারুণ প্রেরণা জুগিয়েছে।"
— ইন্টার্ন চিকিৎসক মোক্তাদির আল বিরুনী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিকলী উপজেলা, নয়াপাড়া গ্রাম, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাইতুন, ডা. অনুপম কুমার দাস, ডা. জাহিরুন নেছা রেনু, ডা. সোহেল, ডা. আয়েশা সিদ্দিকা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ অক্টোবর, ২৭ অক্টোবর, ২৪ ঘণ্টা, ১.৮ কেজি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!