📌 গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন বাজারে মাংস বিক্রেতারা পানি মেশিয়ে ওজন বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। ক্রেতারা মনে করেন, এক কেজি মাংসে প্রায় ১০০ গ্রাম পানি থাকায় প্রকৃত মাংসের পরিমাণ কমে যায় এবং দামে পানি কিনতে হচ্ছে। সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আফরোজা লুপু বলেছেন, এই প্রতারণা সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে
গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস বিক্রেতারা প্রতারণার মাধ্যমে ক্রেতাদের বঞ্চিত করছেন। পানি মেশিয়ে ওজন বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে, যা ক্রেতাদের প্রকৃত মাংসের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে এবং দামে পানি কিনতে বাধ্য করছে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য মাংস একটি বিলাসবহুল খাদ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু প্রতারণার কারণে ক্রেতারা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধা সদর উপজেলার বালুয়া বাজার ও পলাশবাড়ীর গোডাউন বাজারে মাংস বিক্রেতারা পানি ও চর্বি মেশিয়ে ওজন বাড়াচ্ছেন
- 📌 প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, কিন্তু মাংসের মধ্যে প্রায় ১০০ গ্রাম পানি থাকায় প্রকৃত মাংসের পরিমাণ কমে যায়
- 📌 ক্রেতা আশরাফ আলী বলেছেন, এক কেজি মাংসে শক্ত মাংস থাকে মাত্র ৪০০ গ্রাম, বাকি অংশ পানি ও চর্বি মিশ্রিত
- 📌 প্রতিদিন গোডাউন বাজারে ১৫টি পশু জবাই করা হয়, কিন্তু প্রতারণার অভিযোগ ক্রেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে
- 📌 সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আফরোজা লুপু বলেছেন, এই প্রতারণা সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধা জেলায় গরুর মাংসের দাম ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় এটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বিলাসবহুল খাদ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা মাংস কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিক্রেতারা মাংসের ওজন বাড়াতে পানি মেশাচ্ছেন। প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, কিন্তু মাংসের মধ্যে প্রায় ১০০ গ্রাম পানি থাকায় প্রকৃত মাংসের পরিমাণ কমে যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, এক কেজি মাংসে শক্ত মাংস থাকে মাত্র ৪০০ গ্রাম, বাকি অংশ পানি ও চর্বি মিশ্রিত।
বালুয়া বাজার থেকে মাংস কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন আশরাফ আলী। তিনি বলেন, ‘এক কেজি মাংসের মধ্যে শক্ত মাংস থাকে প্রায় ৪০০ গ্রাম। বাকি অংশে পানি মেশানো চর্বি ও ফুসফুস থাকে। ওজন মাপার স্কেলের ওপর চর্বিযুক্ত একটি প্লাস্টিকের বালতি রাখা হয়। এতে পানি ও অন্যান্য অংশের কারণে প্রকৃত মাংসের পরিমাণ আরও কমে যায়।’
পলাশবাড়ীর গোডাউন বাজারেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রতিদিন অন্তত ১৫টি পশু জবাই করা হয়। গভীর রাতে পশু জবাইয়ের পর ভোর থেকেই শুরু হয় মাংস বিক্রি। এই বাজারেও মাংসের ওজন বাড়াতে পানি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। সরেজমিনে দেখা গেছে, পশুর চর্বি ও ফুসফুস পানিভর্তি বালতিতে ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব উপাদান মাংসের সঙ্গে বিক্রি করে ওজন বাড়ানো হচ্ছে।
সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আফরোজা লুপু বলেছেন, ‘গরুর মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে যখন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের খাদ্যতালিকা থেকে মাংস ক্রমেই বাদ পড়ছে, তখন সেই মাংস কিনতে গিয়েও প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করছে। বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকলে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি ও নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।’
"এক কেজি মাংসের মধ্যে শক্ত মাংস থাকে প্রায় ৪০০ গ্রাম। বাকি অংশে পানি মেশানো চর্বি ও ফুসফুস থাকে। ওজন মাপার স্কেলের ওপর চর্বিযুক্ত একটি প্লাস্টিকের বালতি রাখা হয়। এতে পানি ও অন্যান্য অংশের কারণে প্রকৃত মাংসের পরিমাণ আরও কমে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা সদর উপজেলা (বালুয়া বাজার), পলাশবাড়ী উপজেলা (গোডাউন বাজার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আশরাফ আলী, আফরোজা লুপু, পরেশ চন্দ্র বর্মন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০০-৭৫০ টাকা (মাংসের দাম), ১০০ গ্রাম (পানি), ৪০০ গ্রাম (শক্ত মাংস), ১৫টি (পশু জবাই)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!