📌 চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে ছোলার দাম এক মাসে ১৩ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আন্তর্জাতিক বুকিং দর বৃদ্ধি ও পরিবহন খরচের কারণে দাম বাড়ছে। ভোক্তা অধিকার কর্মীরা দাবি করছেন, রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই দাম বাড়াচ্ছেন
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে ছোলার দাম এক মাসের মধ্যে ১৩ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ৯৯ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। রমজান মাসের ইফতার উপাদান হিসেবে ছোলার চাহিদা বাড়ার আগেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আন্তর্জাতিক বুকিং দর বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে দাম বাড়ছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন। তবে ভোক্তা অধিকার কর্মীরা দাবি করছেন, রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই দাম বাড়াচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মূল্যবৃদ্ধি**: খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ছোলার দাম এক মাসে ১৩ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে (৯৯-১০০ টাকা থেকে ৮৫-৮৭ টাকা)।
- 📌 **রমজান চাহিদা**: বছরের ১১ মাসের চাহিদার প্রায় সমান ছোলা রমজান মাসেই বিক্রি হয়।
- 📌 **আন্তর্জাতিক বুকিং দর**: অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতি টন ছোলা বুকিং দর বেড়েছে ৬৫০-৬৮০ ডলার থেকে ৮০০ ডলারের উপরে।
- 📌 **পরিবহন খরচ**: জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় ছোলার দাম বাড়ছে।
- 📌 **খুচরা প্রভাব**: খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোলার দাম ১১০-১১৫ টাকা থেকে বেড়েছে ১২০ টাকায়।
- 📌 **অসাধু ব্যবসায়ী অভিযোগ**: ভোক্তা অধিকার কর্মীরা দাবি করছেন, রমজানকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে ছোলার দাম এক মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকায়, যা প্রতি কেজিতে ৯৯ থেকে ১০০ টাকা। এক মাস আগে প্রতি কেজি দাম ছিল ৮৫ থেকে ৮৭ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ট্রেলিয়া থেকে ছোলা আমদানি করার বুকিং দর বেড়েছে। এছাড়াও পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়ছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেছেন, ছোলাসহ অন্যান্য ডালজাতীয় পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তিনি জানান, ছোলার চাহিদা বৃদ্ধি এবং জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে পণ্যটির বাজারদরে। খাতুনগঞ্জ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ দে বলেন, বাংলাদেশে ছোলার চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতি টন ছোলা বুকিং দর বেড়েছে ৬৫০-৬৮০ ডলার থেকে ৮০০ ডলারের উপরে। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং দেশের বাজারেও ছোলার দাম বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, শীতকালে ছোলা ও ডাল জাতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ে। এর সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। তবে ভোক্তা অধিকার কর্মীদের অভিযোগ, রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই দাম বাড়াচ্ছেন। নগরের চকবাজার এলাকার তাহমিনা স্টোরের মালিক মো. সৈয়দ আহমেদ বলেন, চলতি বছরের এপ্রিলে প্রতি কেজি ছোলা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় কিনেছিলেন। এখন কিনতে হচ্ছে ৯৮ থেকে ১০০ টাকায়। পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি ও দোকানভাড়াসহ অন্যান্য খরচের কারণে খুচরা বিক্রয় দাম ১২০ টাকায় স্থির রাখা হয়েছে।
"প্রতিবছরই রমজানের কয়েক মাস আগে ছোলা, তেল, চিনিসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। পরে রমজান মাসে এসব পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার, চট্টগ্রাম
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আবুল খায়ের, মো. মহিউদ্দিন, পরিতোষ দে, মো. সৈয়দ আহমেদ, এস এম নাজের হোসাইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩-১৫ টাকা (মূল্যবৃদ্ধি), ৯৯-১০০ টাকা (বর্তমান দাম), ৮৫-৮৭ টাকা (পূর্বের দাম), ৩ হাজার ৭০০-৭৫০ টাকা (মণে দাম), ৬৫০-৬৮০ ডলার (পুরাতন বুকিং দর), ৮০০+ ডলার (বর্তমান বুকিং দর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!