📌 প্রথম আলো নিজস্ব প্রতিবেদক। রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম ২ সাংবাদিক ও ২৪ নাট্যব্যক্তিত্বসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল। মঙ্গলবার ১০১ নাগরিকের বিবৃতি—কবি নির্মলেন্দু গুণ, একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. নুরুন নবী, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, রহীম শাহ, ড. শামীম আহমেদ, এস এম মাসুম বিল্লাহ, ড. মাহমুদ হাসান, ড. মুকিত চৌধুরী, ড. প্রদীপ মাহবুব, সুজাত মনসুর, হুমায়ূন কবীর ঢালী, আরিফ নজরুল, মীর রবি। উদ্বেগ—অজ্ঞাত জনসমর্থনহীন সংগঠন, ভীতির পরিবেশ, মতপ্রকাশ স্বাধীনতা।
লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। কবি নির্মলেন্দু গুণসহ এই নাগরিকেরা বলেছেন—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বাধীন বিকাশ এবং পেশাগত নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। ২ সাংবাদিক ও ২৪ নাট্যব্যক্তিত্ব ও অভিনয়শিল্পীসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে 'রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম' নামের একটি সংগঠন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- অভিযোগ দাখিল: ২ সাংবাদিক ও ২৪ নাট্যব্যক্তিত্ব ও অভিনয়শিল্পীসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে।
- অভিযোগকারী: 'রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম' নামের একটি অজ্ঞাত ও জনসমর্থনহীন সংগঠন।
- অভিযোগের ধরন: মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি দেওয়া—২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্ররোচনা, সহযোগিতা ও উসকানি।
- বিবৃতিকারী: ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক—কবি নির্মলেন্দু গুণসহ।
- বিবৃতি প্রকাশ: মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি—অভিযোগ দাখিলের দুই দিন পর।
- উদ্বেগ: অভিযোগের ভিত্তি, প্রমাণ ও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করে জনপরিসরে পদক্ষেপ নিলে সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে; সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে ভীতির পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
- নাগরিকদের দাবি: আইনকে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা; রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
- বিশিষ্ট স্বাক্ষরকারী: কবি নির্মলেন্দু গুণ, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নুরুন নবী, কবি ও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, শিশুসাহিত্যিক রহীম শাহ, অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ, অধ্যাপক এস এম মাসুম বিল্লাহ, ড. মাহমুদ হাসান, কথাসাহিত্যিক ড. মুকিত চৌধুরী, ড. প্রদীপ মাহবুব, সুজাত মনসুর, ড. ফরিদ আহমেদ, শিশুসাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী, কবি ও প্রকাশক আরিফ নজরুল, কবি ও কলামিস্ট মীর রবি।
'রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম'-এর অভিযোগ ও ১০১ নাগরিকের উদ্বেগ
লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। কবি নির্মলেন্দু গুণসহ এই নাগরিকেরা বলেছেন—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বাধীন বিকাশ এবং পেশাগত নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
২ সাংবাদিক ও ২৪ নাট্যব্যক্তিত্ব ও অভিনয়শিল্পীসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামের একটি সংগঠন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেওয়ার দুই দিন পর আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১০১ নাগরিকের এই বিবৃতি আসে। তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে কয়েকজন সাংবাদিক, নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনয়শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে একটি অজ্ঞাত ও জনসমর্থনহীন সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
'আইনের আশ্রয় অধিকার, কিন্তু হয়রানির হাতিয়ার নয়'
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এই অধিকার কোনো ব্যক্তি, শিল্পী বা সাংবাদিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা, পেশাগতভাবে হয়রানি করা কিংবা ভিন্নমতকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের অভিযোগ—তারা যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন, তাঁরা ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে প্ররোচনা, সহযোগিতা ও উসকানি দিয়েছেন। এই অভিযোগের গুরুত্ব হল যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা—যেখানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল এবং প্রায় ১,৫০০ মানুষ নিহত হয়েছিল।
'ভীতির পরিবেশ তৈরি হতে পারে'
১০১ নাগরিকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে—অভিযোগের ভিত্তি, প্রমাণ ও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করে জনপরিসরে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে এতে সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে ভীতির পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে—শিল্প, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক পূর্বশর্ত। ভিন্নমত, সমালোচনা কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে শিল্পী, সাংবাদিক বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করে। এর ফলে সমাজে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়।
বিশিষ্ট স্বাক্ষরকারীগণ
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ ছাড়াও একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নুরুন নবী, কবি ও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, শিশুসাহিত্যিক রহীম শাহ, অধ্যাপক ও লেখক ড. শামীম আহমেদ, অধ্যাপক এস এম মাসুম বিল্লাহ, ড. মাহমুদ হাসান, কথাসাহিত্যিক ড. মুকিত চৌধুরী, শিক্ষক ও লেখক ড. প্রদীপ মাহবুব, লেখক ও গবেষক সুজাত মনসুর, ড. ফরিদ আহমেদ, শিশুসাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী, কবি ও প্রকাশক আরিফ নজরুল এবং কবি ও কলামিস্ট মীর রবি। এ ছাড়া লেখক, কবি, সাংবাদিক, প্রকাশক, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংস্কৃতিক সংগঠক, অভিনেতা, প্রযোজক, গণমাধ্যমকর্মী, গবেষক ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিও বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।
এই বিস্তৃত স্বাক্ষরকারী তালিকা দেখায় যে এই বিবৃতি কোনো একক রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আসেনি—বরং এটি বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক সমাজের একটি বিস্তৃত অংশের উদ্বেগ প্রতিফলন করে। কবি, লেখক, শিশুসাহিত্যিক, অধ্যাপক, গবেষক—সব পেশার প্রতিনিধি এই বিবৃতিতে যুক্ত হয়েছেন।
'আইন যেন প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়'
আইনকে যেন ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না হয়—সে বিষয়ে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেও বিবৃতিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এই নাগরিকেরা।
এই আহ্বান তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি বিশেষ আদালত যা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। এই ট্রাইব্যুনালকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সাংস্কৃতিক কাজের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হলে তা এর উদ্দেশ্যকেই পরিবর্তন করবে। নাগরিকদের উদ্বেগ হল যে এই ধরনের অভিযোগ যদি বারবার দাখিল করা হয়, তবে তা আইনের শাসনকে দুর্বল করবে এবং সমাজে আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি তৈরি করবে।
'গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এই অধিকার কোনো ব্যক্তি, শিল্পী বা সাংবাদিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা, পেশাগতভাবে হয়রানি করা কিংবা ভিন্নমতকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।'—১০১ নাগরিকের বিবৃতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!