📌 সাতক্ষীরার সদর উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়া দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ হয় ১৫৪ বোতল মাদকসিরাপ এবং একটি নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেল। আসামিরা স্বীকার করেছেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করতেন।
সাতক্ষীরায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়া দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকসিরাপসহ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সদর উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়া দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার: মো. মোস্তাইন বিল্লাহ (৩০) ও নাজমুল (২৮)
- 📌 মোস্তাইন বিল্লাহ জেলা পুলিশের স্টাফ ফোর্সে কর্মরত, আগে ডিবিতে কর্মরত ছিলেন; নাজমুল ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর
- 📌 অভিযানে জব্দ হয় ১০০ মিলিলিটারের ২ বোতল উইনসেরেক্স সিরাপ এবং ৫৪ বোতল কোডিন ফসফেট সিরাপ
- 📌 আসামিরা স্বীকার করেছেন দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে মাদক ব্যবসা করতেন
- 📌 অভিযানে নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেল ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে
- 📌 মামলার তদন্তকারী ডিবির উপপরিদর্শক সরোয়ার হোসেন; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার পরিদর্শক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম
📰 বিস্তারিত
গতকাল সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার বকচরা বাইপাস-সংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়া দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি জানতে পারে, বকচরা বাইপাসের একটি চায়ের দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকদ্রব্য কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন। গতকাল বেলা তিনটার দিকে সেখানে অভিযান চালায় ডিবি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মো. মোস্তাইন বিল্লাহ ও নাজমুল পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করে পুলিশ। এ সময় মোস্তাইন বিল্লাহর ট্রাউজারের পকেট থেকে ১০০ মিলিলিটারের দুই বোতল উইনসেরেক্স সিরাপ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে আরও ৫৪ বোতল মাদকসিরাপ পাওয়া যায়। বোতলের গায়ে ‘কোডিন ফসফেট অ্যান্ড ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইড সিরাপ’ লেখা ছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক সরোয়ার হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে মাদক ব্যবসা করার কথা স্বীকার করেছেন। অভিযানে নিবন্ধনহীন একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার পরিদর্শক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, উইনসেরেক্স সিরাপ মূলত ফেনসিডিলের মতো মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফেনসিডিলে যে কোডিন ফসফেট থাকে, উইনসেরেক্সেও একই ধরনের উপাদান থাকে। শুধু নাম পরিবর্তন করে এটি বিক্রি করা হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যাঁরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, তাঁরা যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়ালে আদালতের শাস্তির পাশাপাশি বিভাগীয় শাস্তিও নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে সাতক্ষীরায় কর্মরত সব পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট করা দরকার।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানান, গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি বিভাগীয় মামলাও করা হবে। তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তুতি চলছে।
"উইনসেরেক্স সিরাপ মূলত ফেনসিডিলের মতো মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফেনসিডিলে যে কোডিন ফসফেট থাকে, উইনসেরেক্সেও একই ধরনের উপাদান থাকে। শুধু নাম পরিবর্তন করে এটি বিক্রি করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সদর উপজেলা, বকচরা বাইপাস, সাতক্ষীরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মোস্তাইন বিল্লাহ (৩০), নাজমুল (২৮), সরোয়ার হোসেন (ডিবির উপপরিদর্শক), মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার পরিদর্শক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ জন পুলিশ সদস্য, ৩০ বছর (মো. মোস্তাইন বিল্লাহ), ২৮ বছর (নাজমুল), ১০০ মিলিলিটার ২ বোতল, ৫৪ বোতল মাদকসিরাপ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!