📌 রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনের হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য দুই আসামির ডিএনএ নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ৩৬টি আলামতের মধ্যে ইতোমধ্যে পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও আসামিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে ডিএনএ মিলের তদন্ত চলছে
রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যের হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের তদন্তে নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। দুই আসামির ডিএনএ নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ৩৬টি আলামতের মধ্যে ইতোমধ্যে পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। এই তথ্য রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী নিশ্চিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪ জনের হত্যা: ২১ আগস্ট রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে আগামী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ (১২) শ্বাসরোধে নিহত হন।
- 📌 ২ আসামির ডিএনএ ঢাকায়: মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আদালতের অনুমতি নিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সিআইডিতে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
- 📌 ৩৬টি আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা: ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ৩৬টি আলামতের মধ্যে ইতোমধ্যে সিগারেটের ফিল্টার, শসার অংশ ও খেজুরের বিচিতে পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে।
- 📌 ডিএনএ মিলের তদন্ত: আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় যদি আসামিদের ডিএনএ মিলে যায়, তাহলে তাদের হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যাবে।
- 📌 ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি: গ্রেফতারকৃত আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
📰 বিস্তারিত
রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার সিআইডির দফতরে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর ডিবি পুলিশের ওসি জিনাত আলী কারাগার থেকে দুই আসামিকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অন্তত তিনটি আলামতে পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। সিগারেটের ফিল্টার, কামড় দেওয়া শসার অংশবিশেষ ও খেজুরের বিচিতে পাওয়া ওই ডিএনএ কার, তা এখনো শনাক্ত করা হয়নি। এসব ডিএনএ নিহত গণপতি চক্রবর্তী এবং দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সিআইডির ফরেনসিক টিম কয়েকটি আলামত থেকে পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে আরও আলামত পরীক্ষা করা হতে পারে।
গত ২১ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তীসহ চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চার জনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ওই দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুই আসামির সম্পৃক্ততা এবং পুলিশের দেওয়া হত্যার কারণ নিয়ে নিহতের স্বজনসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, হত্যার প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতের সঙ্গে আসামিদের ডিএনএর মিল রয়েছে কি না- এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
"সিআইডির ফরেনসিক টিম কয়েকটি আলামত থেকে পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে আরও আলামত পরীক্ষা করা হতে পারে। আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা সিআইডিতে পাঠানো হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুরের মাছুয়াপাড়া, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, ঢাকার সিআইডি দফতর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), আগামী চক্রবর্তী (২৫), আয়ুশ চক্রবর্তী (১২), মুগ্ধ দাস, সিদ্ধার্থ দাস, উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী, ওসি জিনাত আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন নিহত, ২ আসামি, ৩৬টি আলামত, ২০ সেপ্টেম্বর, ২১ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!