📌 ঢাকার কলতাবাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে র্যাবের সদস্যরা অপহরণের চেষ্টা করেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে সাবেক স্বামী সুমন মিয়া র্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে অপহরণ চেষ্টা ব্যর্থ হয়
ঢাকার পুরান এলাকার কলতাবাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রাক্তন নারী শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে র্যাবের সদস্যরা অপহরণের চেষ্টা করেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাটি ঘটে। র্যাবের স্টিকারযুক্ত গাড়িতে শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পরিচয়পত্র ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না দেখাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের বাধায় তারা ফিরে যেতে বাধ্য হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মমতাজ আরা বর্ষা (জবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী) র্যাবের সদস্যরা অপহরণের চেষ্টা করেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ব্যর্থ হন।
- 📌 সুমন মিয়া (শিক্ষার্থীর বোনের সাবেক স্বামী) র্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি করেন।
- 📌 পারিবারিক বিরোধ ও বিবাহবিচ্ছেদের পর সুমন মিয়া শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের শিকার করেন।
- 📌 র্যাব সদস্যরা কোনো আইনি দলিল দেখাতে না পেরে শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তুলে নিতে ব্যর্থ হন।
- 📌 সূত্রাপুর থানার ওসি জানান, ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের কারণে সংঘটিত।
📰 বিস্তারিত
মমতাজ আরা বর্ষা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তিনি দাবি করেন, তার বোনের সাবেক স্বামী সুমন মিয়া র্যাবের ওপর প্রভাব খাটিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মমতাজ আরা বলেন, “এ বছরের মে মাসে আমার বোনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই সুমন আমাদের পরিবারকে হয়রানি করছিলেন। আমরা আগস্ট মাসে দিনাজপুর জজকোর্টে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। সুমন মিয়া র্যাবের আইটি সেকশনে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি আমাকে অপহরণের চেষ্টা করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।”
সকালের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মমতাজ আরা বলেন, “খুব ভোরে সিভিল ড্রেসে কয়েকজন আমাদের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করে। তারা র্যাবের পরিচয় দেয়, কিন্তু কোনো আইডি কার্ড বা ওয়ারেন্ট দেখাতে পারেননি। তারা বিশ্রী ভাষায় আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলেও আমরা ওয়ারেন্ট দেখাতে বললাম। কিন্তু তারা ওয়ারেন্ট ছাড়াই আমাকে তুলে নিতে চেয়েছিল। আমার বাসাও সার্চ করে, কিন্তু কোনো নারী র্যাব সদস্য ছিল না।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে অপহরণ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক জানান, “আমরা সেখানে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীকে গাড়িতে ওঠানো হয়েছে। আমরা বললাম, শিক্ষার্থী এখান থেকে যাবে না। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ থাকলে প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার জানান, “যারা এসেছিলেন, তারা মোহাম্মদপুর র্যাব-২-এর সদস্য ছিলেন। তারা একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিলেন। পরে জানতে পারি, এটি পারিবারিক বিরোধের কারণে করা একটি মামলা। পরে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়ে তারা চলে যায়।”
"আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ওয়ারেন্ট ছাড়া কীভাবে আমাকে তুলে নিতে চায়? এ ঘটনায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলতাবাজার, পুরান ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতাজ আরা বর্ষা, সুমন মিয়া, তারেক বিন আতিক, মোহাম্মদ আনোয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!