📌 টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের মতে, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর সংশোধনী খসড়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার সুযোগ বাড়ছে। সংশোধনীতে মানহানি, অবমাননা ও গুজবের সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছে, যা আইনের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, আইন প্রণয়নের আগে নাগরিক সমাজের সাথে যথেষ্ট পরামর্শ হয়নি
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশোধনী খসড়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের মতে, এই সংশোধনীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতোই মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ আরও বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি আজ শনিবার একটি বিবৃতিতে এই বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট বলছে, সংশোধনী খসড়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার সুযোগ বাড়ছে।
- 📌 ২৫ ও ২৬ ধারাতে ‘অবমাননা’, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’-সংক্রান্ত নতুন অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে, যার সংজ্ঞা অস্পষ্ট।
- 📌 মানহানির সংজ্ঞা আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করছে।
- 📌 গণমাধ্যম ও নাগরিকদের সাথে আইন প্রণয়নের আগে কোনো অর্থবহ পরামর্শ করা হয়নি।
- 📌 আইনটি বাস্তব ক্ষতির প্রমাণ ছাড়াই বিতর্কিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রয়োগের ঝুঁকি রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ আরও বাড়তে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচিত কাঠামো সংকুচিত করার বদলে তা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। এতে আইনটির অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, সংশোধনীতে মানহানির সংজ্ঞা আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ ও ২৬ ধারায় ‘অবমাননা’, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’-সংক্রান্ত নতুন অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। এসব শব্দের সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়, ফলে কোনো বক্তব্য মানহানিকর, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা গুজব কি না, তা নির্ধারণে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থে করা সাংবাদিকতা সুরক্ষার জন্য খসড়ায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই। কোনো বক্তব্যের কারণে বাস্তব ক্ষতি হয়েছে—এমন প্রমাণের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়নি। একই সঙ্গে এসব অপরাধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তির সুযোগ থাকায় বিতর্কিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে আইনটি বেছে বেছে প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের সময়ও খুব সীমিত জনসম্পৃক্ততা ছিল। টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের মতে, শুধু একটি খসড়া প্রকাশ করাই জনপরামর্শের জন্য যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে এবং তাঁদের মতামত ও সুপারিশ আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, আইনে বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকার ও সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীন বাংলাদেশের দায়বদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
"সংশোধনীতে মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ আরও বাড়তে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচিত কাঠামো সংকুচিত করার বদলে তা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। এতে আইনটির অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ ও ২৬ ধারা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!