📌 লালপুরের ওহিদুল মোল্লা রিকশাচালক থেকে হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উঠেন। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে হ্যাকার চক্র। বাড়ি-গাড়ি, কবুতর-মহিষের খামার গড়ে তোলেন। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হন তিনি
লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের ওহিদুল মোল্লা রিকশাচালক থেকে সাইবার অপরাধের নেতা হয়ে উঠেছেন। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা হ্যাকার চক্রের মাধ্যমে অল্প সময়ে সম্পদ জমা করেছেন। পুলিশের অভিযানে গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। এলাকার মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে ওহিদুলের উত্থান ও পতনের গল্প।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওহিদুল মোল্লা মাদ্রাসা শেষ না করেই রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন, পরে রিকশা চালান। পাঁচ বছর আগে হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
- 📌 বাড়ি-গাড়ি, কবুতর ও মহিষের খামার গড়ে তোলেন। এলাকায় ‘হ্যাকিং গুরু’ হিসেবে পরিচিতি পান।
- 📌 গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের কাছে ৬৮টি সিম পাওয়া যায়, যা হ্যাকিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।
- 📌 সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে পুলিশের নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করতেন।
- 📌 এলাকার বাসিন্দারা বলেন, তিনি দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে রাজশাহী ও পাবনা ঘুরতেন।
📰 বিস্তারিত
ওহিদুল মোল্লা মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। তার বাবা কৃষিকাজ করতেন। শৈশবে ওহিদুল গ্রামের মাদ্রাসায় পড়তেন, কিন্তু হেফজ শেষ না করেই রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেন্টু মোল্লা, ওহিদুলের চাচাতো ভাই, বলেন, তিনি কয়েক দিন পর রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ ছেড়ে রিকশা চালানো শুরু করেন। এলাকার হ্যাকারদের সঙ্গে তার সখ্য তৈরি হয়। পাঁচ বছর আগে রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে হ্যাকিং কার্যক্রম শুরু করেন ওহিদুল। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একজন দক্ষ হ্যাকার হয়ে ওঠেন।
ওহিদুলের সম্পদ বাড়তে থাকে। তিনি বাবার বাড়ি মোহরকয়ায় থাকলেও বিলমাড়িয়ায় পদ্মা নদীর ধারে পাকা বাড়ি করেছেন। তার খামারে লাখ টাকা দামের কবুতর ও মহিষ রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, তিনি বাড়ির আশপাশে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন। কবুতরের ঘরের আড়ালে নিজের থাকার জন্য দামি আসবাব ব্যবহার করতেন। শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও সিসিটিভি মনিটর ছিল সেই কক্ষে।
ওহিদুলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি এলাকার মানুষের মুখে মুখে আলোচিত। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুলের নেতৃত্বে অনেকেই হ্যাকিং কার্যক্রমে জড়িয়েছেন। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে ৬৮টি সিম পাওয়া গেছে, যা হ্যাকিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। ওহিদুলের একজন প্রতিবেশী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কবুতরচোর ঠেকানোর জন্য ক্যামেরা লাগিয়েছিলেন। তবে আসলে তা ছিল পুলিশের নজরদারি এড়ানোর জন্য।
"তাঁর কাছে শিখে অনেকেই এই কার্যক্রমে জড়িয়েছেন। লুকিয়ে থাকার কৌশল অবলম্বন করেও কেউ ছাড় পাবে না।"
ওহিদুল এলাকায় ‘হ্যাকিং গুরু’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দামি গাড়ি নিয়ে এলাকায় চলাফেরা করতেন। লালপুরে ভাড়ায় চালিত একটি প্রাইভেট কারের চালক বলেন, ওহিদুল গাড়ি ভাড়া নিয়ে পাবনা ও রাজশাহীতে যেতেন। কখনো কখনো সারা রাত গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াতেন। তিনি খাবার হোটেলের কর্মচারীদের হাজার হাজার টাকা বকশিশ দিতেন। ভাড়ার বাইরে তাঁদের ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা বকশিশ দিতেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালপুর উপজেলা, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন, মোহরকয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওহিদুল মোল্লা, সেন্টু মোল্লা, শফিকুল ইসলাম (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ৬৮টি সিম কার্ড, ৫০০-১০০০ টাকা বকশিশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!