📌 ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে সেলুনে চুল কাটছিলেন ফরহাদ হোসেন (৩০)। হঠাৎ গ্যাং সদস্যরা গুলি ও চাপাতি দিয়ে তাঁকে নিহত করেন। ফরহাদ মোহাম্মদপুরের ফুটপাতে মাছ বিক্রি করতেন এবং কিশোর গ্যাংের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে সেলুনে চুল কাটছিলেন ফরহাদ হোসেন (৩০)। হঠাৎ সেখানে ঢুকে গ্যাং সদস্যরা গুলি ও চাপাতি দিয়ে তাঁকে নিহত করেন। ফরহাদকে সেলুনের বাইরে বেরিয়ে পড়ার চেষ্টা করলে তাঁর লুঙ্গি টেনে ধরে রাখা হয় এবং চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরহাদ হোসেন (৩০) মোহাম্মদপুরের ফুটপাতে মাছ বিক্রি করতেন এবং কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপ’-এর সদস্য ছিলেন।
- 📌 ৩ টা ৭ মিনিটে সেলুনে ঢুকে একজন গ্যাং সদস্য গুলি ছুড়ে দেন, অন্যরা চাপাতি দিয়ে কোপান।
- 📌 ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ফরহাদকে গ্যাং সদস্যরা আক্রমণ করে।
- 📌 মোহাম্মদপুর থানা জানায়, ফরহাদ সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।
- 📌 আরশিনগর রাজ সেলুন থেকে ফরহাদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে বিকেল ৪টায় মৃত ঘোষণা করা হয়।
📰 বিস্তারিত
ফরহাদ হোসেন (৩০) ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে অবস্থিত রাজ সেলুনে চুল কাটছিলেন। হঠাৎ সেখানে তিনজন গ্যাং সদস্য ঢুকে পড়ে। তাদের মধ্যে একজন পিস্তল বের করে সেলুনের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দেন। অন্যরা কোমর থেকে ধারালো চাপাতি বের করে সেলুনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ফরহাদ লুঙ্গি পরা অবস্থায় বেরিয়ে পড়ার চেষ্টা করলেও পেছন থেকে একজন তাঁর লুঙ্গি টেনে ধরে রাখায় পালাতে পারেননি। এরপর গ্যাং সদস্যরা ফরহাদকে চাপাতি দিয়ে কোপিয়ে গুরুতর আহত করেন।
ফরহাদের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের দাবি, ফরহাদ মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন। সেখানে কিশোর গ্যাং সদস্য আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ সাত-আটজন তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে। ব্যবসা করতে হলে এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন আলাদা টাকা দাবি করেছিল তারা। ফরহাদ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্যাং সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধ সৃষ্টি করে। এই বিরোধের জেরে আজ দুপুরে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ৩টা ৭ মিনিটের দিকে তিনজন গ্যাং সদস্য সেলুনে ঢোকে। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় ক্যাপ ছিল। গুলির ভয়ে সেলুনের ভেতরে থাকা অন্য ব্যক্তিরা দৌড়ে বাইরে বের হয়ে আসেন। এরপর বাকি দুজন কোমর থেকে ধারালো চাপাতি বের করে সেলুনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ফরহাদকে চাপাতি দিয়ে কোপানো হয় এবং গুরুতর জখম অবস্থায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্র জানায়, নিহত ফরহাদ নিজেও কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপ’-এর সদস্য ছিলেন। মোহাম্মদপুরের বোটঘাট ও ময়ূরভিলা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেন, এ ঘটনায় জড়িত দুই গ্রুপই মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার বলে জানা গেছে। পূর্ববিরোধের জেরে তারা আরশিনগরে এসে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে।
"এ ঘটনায় জড়িত দুই গ্রুপই মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার বলে জানা গেছে। পূর্ববিরোধের জেরে তারা আরশিনগরে এসে ঘটনাটি ঘটিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আরশিনগর, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরহাদ হোসেন (৩০), আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ বছর, ৫০ হাজার টাকা, ৩টা ৭ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!