📌 সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স, ইকুয়ালিটি অ্যান্ড পলিসির (সিজিইপি) আয়োজিত সংলাপে শিশুর প্রকৃত পরিচর্যাকারীকে অভিভাবকত্বের আইনগত স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উঠে এসেছে। বর্তমান আইন ব্যবস্থায় শিশুর প্রকৃত পরিচর্যাকারী মা বা অন্য ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত না হওয়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়
বাংলাদেশে শিশুর প্রকৃত পরিচর্যাকারীকে অভিভাবকত্বের আইনগত স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর দৃকপাঠ ভবনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স, ইকুয়ালিটি অ্যান্ড পলিসি (সিজিইপি) আয়োজিত একটি সংলাপে উঠে এসেছে। বর্তমান আইনি ব্যবস্থায় শিশুর স্বাভাবিক অভিভাবক হিসেবে শুধুমাত্র বাবাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যার ফলে প্রকৃত পরিচর্যাকারী মা বা অন্য ব্যক্তি শিশুর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বা প্রয়োজনীয় নথিতে সই করতে অসুবিধা ভোগ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিজিইপি সংলাপে বলেন: বর্তমান আইন ব্যবস্থায় শিশুর প্রকৃত পরিচর্যাকারী মা বা অন্য ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত না হওয়ায় শিশুর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হয়
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন: শিশুর পরিচর্যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, রাজনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন
- 📌 ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন দাবি করেন: ঔপনিবেশিক ও পিতৃতান্ত্রিক আইনি বিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন
- 📌 বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চৌধুরী বলেন: শিশুর পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠায় রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকা দরকার
- 📌 সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ প্রস্তাব দেন: সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পরিচর্যাব্যবস্থা গড়ে তোলা
📰 বিস্তারিত
সিজিইপির আহ্বায়ক দিলরুবা শরমিন উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও জবাবদিহি এবং বিদ্যমান আইনের পরস্পরবিরোধী বিধান ও সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, অভিভাবকত্বের যেকোনো প্রশ্নে শিশুর সর্বোত্তম কল্যাণই হতে হবে প্রধান বিবেচনা। সংলাপে উঠে আসে, আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও তা কার্যকর না হওয়া, মামলা দীর্ঘায়িত হওয়া এবং অভিভাবকত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার পরও সামাজিক অসহযোগিতা ও মানসিক চাপ মোকাবিলার মতো সমস্যা।
ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ঔপনিবেশিক ও পিতৃতান্ত্রিক আইনি বিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি অভিভাবকত্বের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও বিচারকদের প্রশিক্ষণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির প্রস্তাব দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, শিশুর পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠায় রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকা দরকার। তিনি পথশিশু, অনাথ, রোহিঙ্গা ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলেন।
সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ফস্টার কেয়ার বা বিকল্প পরিচর্যাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সম্পৃক্ত করা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিবেচনার আহ্বান জানান।
"শিশু অধিকার সনদে সই করা প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। সেই দেশে আজও আমাদের এসব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হচ্ছে, যা ভাবনার বিষয়।"
— আলোকচিত্রী শহিদুল আলম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দৃকপাঠ ভবন, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দিলরুবা শরমিন, জহির উদ্দিন স্বপন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সুব্রত চৌধুরী, মারদিয়া মমতাজ, শহিদুল আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (সংলাপের আয়োজন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!